ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনশত বছরের প্রাচীন কালভৈরব মন্দিরে যজ্ঞ মহোৎসব শুরু।

জায়শা জাহান মিমি, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
Feb 23, 2026 - 20:48
Feb 23, 2026 - 20:48
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনশত বছরের প্রাচীন কালভৈরব মন্দিরে যজ্ঞ মহোৎসব শুরু।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনশত বছরের প্রাচীন কাশীশ্বর শ্রীশ্রী কালভৈরব মন্দিরে পূজা হোমযজ্ঞ ও ৬ দিনব্যাপী মহোৎসব শুরু হয়েছে।

সোমবার সকালে শহরের মেড্ডাস্থ তিতাস নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে বৈদিক পতাকা উত্তোলণের মাধ্যমে বৃহৎ এই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বৈদিক পতাকা উত্তোলন করেন শ্রীশ্রী কালভৈরব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পলাশ ভট্টাচার্য্য। পরে জীব জগতের কল্যান কামনায় সপ্তশতী চন্ডীযজ্ঞ ও হোমযজ্ঞের শোভারম্ভ করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশর বিভিন্ন স্থান সহ ভারত থেকে আগত পুরোহিত পন্ডিতগনসহ স্থানীয় ভক্তবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। যজ্ঞ উপলক্ষে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তবৃন্দরা যজ্ঞের আহুতি হিসেবে ফল, ফুল,দূর্বা, বেলপাতা সহ বিভিন্ন পূজার সামগ্রী যজ্ঞ স্থলে প্রদান করেন।

এদিকে কালভৈরব মন্দিরে আসা ভক্তদের সার্বিক সহযোগিতাসহ শুভেচ্ছা জানান, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। এ সময় তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরে প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ এই উৎসব মিলনমেলায় পরিণত হয়। সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে বৃহৎ এই উৎসব পালনে আমরা সব সময় পাশে থাকবো।

যজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজকসহ পুরোহিতেরা জানান, আজ থেকে তিনশো বছর পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা দূর্গাচরন আচার্য্য স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে শহরের মেড্ডা এলাকায় তিতাস নদীর তীরে শ্রীশ্রী কালভৈরব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে জীব জগতের কল্যান কামনায় প্রতিবছর এই যজ্ঞ অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। পরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহীনি ডিনামাইটের মাধ্যমে ২৪ ফুট উচু কালভৈরব মুর্তির ক্ষতিসাধন করা হয়। এর পর স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েক বছর পূজা-উৎসব বন্ধ থাকে। পরে কুমিল্লার ভক্ত সচিনন্দন সেন, "স্থানীয় ভক্তদের সহযোগীতায় কালভৈরব মন্দিরটির পুণ: প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে গত ৪৮ বছর ধরে পুন:প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। যজ্ঞ অনুষ্ঠানে যোগদেয়া পুরোহিতেরা জানান,“ জগতের কল্যান কামনায় এই চন্ডী যজ্ঞের মাধ্যমে মহাকালকে তুষ্ট করার জন্যেই ধর্মীয় ভাবে এই প্রয়াস গ্রহন করা হয়েছে।

এদিকে পাঁচদিনব্যাপী যজ্ঞ উৎসবকে কেন্দ্রকরে কালভৈরব মন্দির আশেপাশে তিতাস নদীর তীরে বসেছে লোকজ মেলা। মেলায় নাগরদোলা খেলনা সামগ্রী সহ মাটির তৈরী হরেক রকমের সামগ্রীর পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান চলবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow