কোরবানির গোশত আনতে গিয়ে সড়কে প্রাণ হারালেন মৎস্যজীবী আব্দুস সাত্তার
ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিলো বিষাদে। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় কোরবানির গোশত আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আব্দুস সাত্তার নামে এক মৎস্যজীবী। নিহত আব্দুস সাত্তার উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া মোল্লাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (ঈদুল আজহার দিন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের নাওডোবা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিজ এলাকায় ঈদুল আজহার নামাজ আদায় শেষে নিজের জন্মস্থান শরীয়তপুরে কোরবানির গোশত আনতে রওনা হন আব্দুস সাত্তার। পথিমধ্যে নাওডোবা স্ট্যান্ডে বাস থেকে নামার সময় হঠাৎ গাড়িটি ঝাঁকুনি দেয়। এতে তিনি বাসের দরজা দিয়ে নিচে পড়ে যান এবং পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
মৃত্যুকালে আব্দুস সাত্তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মেয়ের জামাতা মাওলানা রেজাউল করীম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের পরিবার জানায়, তারা সাত ভাই, যার মধ্যে আব্দুস সাত্তার ছিলেন সবার বড়। জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবার নিয়ে সদরপুরে বসবাস করলেও তার অন্য ভাইয়েরা শরীয়তপুরে থাকেন। আগের রাতে ভাইয়েরা তাকে কোরবানির গোশত নেওয়ার জন্য আসার অনুরোধ করেছিলেন। সেই উদ্দেশ্যেই সকালে শরীয়তপুর যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
এদিকে, গতকাল বাদ মাগরিব স্থানীয় মোল্লাবাড়ী জামে মসজিদ মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মসজিদের পাশে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা মুফতী বোর্ড ও বাংলাদেশ ইসলামী জনকল্যাণ ফাউণ্ডেশনের সভাপতি মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী; উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী এবং ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মোখতার হুসাইন, মাওলানা মিরাজুল ইসলাম এবং ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতীসহ অনেকে।
মৎস্যজীবী আব্দুস সাত্তারের আকস্মিক এই মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ