অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণে জেল-জরিমানা: কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কঠোর হচ্ছে আইন

অনলাইন ডেস্কঃ
Apr 22, 2026 - 00:12
অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণে জেল-জরিমানা: কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কঠোর হচ্ছে আইন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ বা আধেয় নির্মাতাদের জন্য দুঃসংবাদ। এখন থেকে যত্রতত্র মোবাইল বা ক্যামেরা দিয়ে অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে প্রচার করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। নতুন ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬’-এর অধীনে এসব অপরাধের বিচার দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা বিল ২০২৬’ পাস হয়েছে। এই আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে তা ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি বা অবমাননাকর উদ্দেশ্যে প্রচার করলে সেটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী যদি নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হয়, তবে শাস্তির মাত্রা বেড়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। এছাড়া ভিডিওর মাধ্যমে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা প্রতারণা করা হলে অপরাধীর ৫ বছরের জেল ও ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

নতুন এই আইনে ভুক্তভোগীদের দ্রুত প্রতিকার দিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, যাতে বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। এছাড়া প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা হিসেবে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে:

১. কন্টেন্ট অপসারণ: জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক যেকোনো ক্ষতিকর বা মানহানিকর কন্টেন্ট বিটিআরসির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্লক বা অপসারণ করার ক্ষমতা রাখবেন।
২. তল্লাশি ও গ্রেপ্তার: জরুরি প্রয়োজনে পরোয়ানা ছাড়াই অপরাধীর ডিভাইস জব্দ এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে।
৩. ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব: ভিডিওর উৎস এবং অপরাধী শনাক্ত করতে আন্তর্জাতিক মানের ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওর আড়ালে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে যা নিয়মিত সাইবার স্পেস পর্যবেক্ষণ করবে। এমনকি দেশের বাইরে থেকে কেউ এই ধরনের অপরাধ করলে ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন ২০১২’-এর মাধ্যমে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।

সংসদে উত্থাপিত এই নতুন ব্যবস্থার ফলে যত্রতত্র ভিডিও ধারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow