রোয়াংছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৫টি দোকান ও গরুর খামার পুড়ে ছাই
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫টি দোকান, একটি বসতঘর ও একটি গরুর খামার সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার দিবাগত রাত (২১ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার) আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ওয়াগয় পাড়া সংলগ্ন রোয়াংছড়ি পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে পুড়ে মারা গেছে খামারের গবাদিপশুও।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন— প্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা, মুঞ্যজয় তঞ্চঙ্গ্যা, কল্যাণময় তঞ্চঙ্গ্যা, খামারি মো. জসিম উদ্দিন এবং কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনে দোকানপাটের সমস্ত মালামাল ও দুটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এছাড়া মো. জসিম উদ্দিনের খামারে থাকা ৪টি গরুর মধ্যে ৩টি এবং ২টি ছাগল আগুনে পুড়ে মারা যায়। বাকি একটি গরু দগ্ধ অবস্থায় জীবিত রয়েছে। চোখের সামনে সহায়-সম্বল ও ব্যবসার পুঁজি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। প্রাথমিকভাবে এ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন হঠাৎ আগুন লাগার শব্দ শুনতে পান তারা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা তীব্র আকার ধারণ করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুনের সুনির্দিষ্ট সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, খামারি জসিম উদ্দিনের গরুর খামার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি। এসময় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। পরিদর্শনকালে ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তঞ্চঙ্গ্যাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?
সাথোয়াই অং মারমা, রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ