জলঢাকায় নিলাম ছাড়াই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো আসবাবপত্র বিক্রি
নীলফামারীর জলঢাকায় নিয়ম নীতি না মেনে নিলাম ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো আসবাবপত্র বিক্রির অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।বিচারের দাবীতে গণস্বাক্ষর দাখিল করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর শহরের চেরেঙ্গা ১নং ঝাড়পাড়া এল.পি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর আমিন কোনো প্রকার সরকারী নিয়ম নীতি না মেনে নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে স্কুল বন্ধের দিনে গোপনে স্কুলের পুরাতন আসবাব পত্র ভাঙারী ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। গত ৪/৫ দিন আগে বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর কক্ষে থাকা ২০ জোড়া উঁচু নিচু পুরাতন লোহার বেঞ্চ, ৪টি লোহার টেবিল ও ৪টি লোহার চেয়ার বিক্রি করে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
তবে স্কুলের পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রির বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এমন কি ওই স্কুলে কর্মরত বাকী তিনজন সহকারী শিক্ষকদেরও অবগত করেননি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজিজুল ইসলাম, মোছাদ্দেক হোসেন ও ফজিলা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আমাদের কাউকে না জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার একক সিদ্ধান্তেই পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রি করেছেন চলতি মাসের গত ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল স্কুল বন্ধ থাকার কারনে। স্কুল খোলার পর আমরা শ্রেণীকক্ষে ওইসব পুরাতন আসবাবপত্র দেখতে না পেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।
এ ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ওই স্কুলের দাতা সদস্যসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর আমিন পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আসবাবপত্র বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছি সে টাকা দিয়ে আমি স্কুলের কাজ করেছি।”নিলাম প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও আমাদের স্কুলের শিক্ষকদের কাউকে না জানানোটা আমার ভুল ছিল।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সামাদ বলেন, “নিলাম ছাড়া পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। আমি এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়েছি। তাই নিলাম ছাড়া আসবাব পত্র বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
What's Your Reaction?
হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ