আত্রাইয়ে বোরো ধান পাকার পূর্ব মুহূর্তে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কৃষি অফিসের নানা উদ্যোগ
নওগাঁর আত্রাইয়ে বোরো ধান পাকার পূর্ব মুহূর্তে উপজেলা কৃষি অফিস নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা এমন আবহাওয়ায় কৃষকের মাঠভরা বোরো ধান যেন পোকার আক্রমণে বিনষ্ট না হয়, এজন্য তারা কৃষকদের বিভিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার শাহাগোলা, ভোঁপাড়া, মনিয়ারী ও পাঁচুপুর ইউনিয়নে সর্বাধিক জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় প্রত্যেক মাঠেই ধানের শীষ বের হয়েছে। অনেক মাঠে ধান পাকতেও শুরু করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বোরো ধানের মাঠগুলো সোনালী রঙে রঙিন হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকের ধানে পোকার আক্রমণ হলে কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এদিকে এবারে বোরো মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও সম্প্রতি দিনে তীব্র গরম ও রাতে ঠান্ডা আবহাওয়া ধানের জন্য অনুকূল নয়। এমন আবহাওয়ায় কারেন্ট পোকার উপদ্রব বাড়ার সম্ভাবনা থাকে বলে কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়াও ব্লাস্ট রোগ এবং পাতা খোলপচা রোগসহ নানা রোগে ধানগাছ আক্রান্ত হতে পারে।
এসব রোগের লক্ষণ হলো পাতাব্লাস্ট: পাতায় ছোট ছোট ডিম্বাকৃতির দাগ দেখা দেবে। গিটব্লাস্ট: কাণ্ডের গিট আক্রান্ত হয় এবং কাণ্ড কালো হয়ে হেলে পড়ে। নেকব্লাস্ট: ধানের শীষের গোড়ায় কালো দাগ পড়ে এবং শীষ ভেঙে পড়ে।
এসব রোগবালাই থেকে বোরো ধানকে মুক্ত রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রতিনিয়ত কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসের লোকজন।
উপজেলার ভর-মাধাইমুড়ী গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার জমির ধানগাছ খোলপচা রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। কৃষি অফিসের লোকজনের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় এখন ধানগাছ ভালো রয়েছে। উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আজাদ রহমান বলেন, বর্তমানে বোরো ধানকে নিরাপদ রাখার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা প্রতিনিয়ত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। তাদের মাঝে লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, বোরো ধান পাকার পূর্ব মুহূর্তটা স্পর্শকাতর সময়। আমরা বোরো ধান রোপণের শুরু থেকেই কৃষকদের সাথে আছি। বর্তমানে আমি নিজেই মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ধানের অবস্থা দেখে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।
উপজেলার চৌড়বাড়ি, আহসানগঞ্জ, জাতআমরুল, গণ্ডগোহালী, মহাদিঘীসহ অনেক গ্রামে আমরা উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ উদ্বুদ্ধকরণ সভা করেছি। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের উপজেলায় ধান বিনষ্টকারী পোকার সংক্রমণ হয়নি। ধানের অবস্থা ভালো আছে। আশা করা যায়, এবার কৃষকরা ধানের বাম্পার ফলন পাবেন।
What's Your Reaction?
আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ