ঘুষ খাওয়া আর ‘মল’ খাওয়া সমান: সংস্কৃতিমন্ত্রী
দুর্নীতি, দখলদারি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি ঘোষণা করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় দুর্নীতির নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ঘুষ খাওয়া আর “মল” খাওয়া সমান কথা। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী আমিনুর রহমান কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশ থেকে ঘুষ ও দুর্নীতি সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। যারা ঘুষ খেয়ে আত্মতৃপ্তি পায়, তারা দেশ ও সমাজের জন্য অত্যন্ত জঘন্য এবং তারা দেশকে এগিয়ে নিতে পারে না।
সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিতরণে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে আমরা কোনো দলীয় পরিচয় দেখব না। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি—উভয়ই এই সুবিধার আওতায় আসবেন। এই কার্ড হবে প্রতিটি পরিবারের আর্থিক সুরক্ষাকবচ, যা সরাসরি মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।’
জনকল্যাণে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী জানান, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষদের জন্য প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো চলবে না। এছাড়া পরিবেশ ও কৃষির উন্নয়নে নদী ও খাল খনন কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
রাজনৈতিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ বা ধর্মের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি। আমরা বিভেদ নয়, জনগণের ঐক্য চাই।’
আমিনুর রহমান কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. তানভীর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান, সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মতিউর রহমান এবং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. মিজানুর রহমান কাবুল। অনুষ্ঠান শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।
What's Your Reaction?
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ