যুদ্ধের আর শঙ্কা আছে কিনা, যা জানাল পাকিস্তান
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের যে দামামা বাজার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে পাকিস্তান। দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে অবশেষে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে এক ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার পটভূমি তৈরি হয়েছে। এই আলোচনার সফলতায় আশার আলো দেখছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আশা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি গঠনমূলক শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে। তিনি জানান, এই সংকটের একটি ‘স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে’ পৌঁছাতে ইসলামাবাদ দুপক্ষকেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে।
সূত্রমতে, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এর আগে শুক্রবার রাতে সেখানে এসে পৌঁছায় ইরানের প্রতিনিধিদল। উভয় পক্ষই এখন আলোচনার টেবিলে বসার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
এদিকে এই আলোচনার অন্যতম প্রধান অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরানের জব্দকৃত বিশাল অংকের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলারের তহবিল ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই সমঝোতার পেছনে রয়েছে একটি বিশেষ শর্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্তেই ওয়াশিংটন এই অর্থ মুক্ত করতে রাজি হয়েছে। অর্থাৎ, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করে, তবেই তারা এই অর্থ হাতে পাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক যদি সফল হয়, তবে তা কেবল দুই দেশের সম্পর্কের বরফই গলাবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এখন সবার দৃষ্টি এই শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ