ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ফরিদপুরের মধুখালিতে এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করার দায়ে স্বামী মো. নাছের ঠাকুর (৪০)কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানের সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে জেলা কারাগারে নিয়ে যায়। নিহত স্বপ্না বেগমের (২৫) বাবার বাড়ি একই উপজেলার দাড়িরপাড় গ্রামে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে মো. নাছের ঠাকুর ও স্বপ্না বেগম পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই নাছের যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করতেন। ২০১৬ সালে এক লাখ টাকা যৌতুক না পাওয়ায় ২১ মার্চ তিনি স্বপ্নাকে মারধর করেন এবং সন্ধ্যায় নিজের বসতঘরে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে হত্যা করেন।
স্বপ্নার বড় ভাই মো. আলী শেখ (৩৯) মধুখালি থানায় নাছের ঠাকুরসহ আরও চার ভাইকে সহযোগী আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন মধুখালি থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রব। হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, “ন্যায়বিচার পেয়েছি। কিছুটা দেরি হলেও প্রমাণ হলো, দোষ করার পর পার পাবে না। এতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলো।”
What's Your Reaction?
জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ