আলীকদম–পোয়ামুহুরী ৩৭.৫ কিলোমিটার সড়ক সেনাবাহিনীর কাছ থেকে সড়ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর

আবু জুয়েল নূর খান, আলিকদম প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
Apr 6, 2026 - 19:07
Apr 6, 2026 - 19:07
আলীকদম–পোয়ামুহুরী ৩৭.৫ কিলোমিটার সড়ক সেনাবাহিনীর কাছ থেকে সড়ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর আলীকদম থেকে পোয়ামুহুরী পর্যন্ত সাড়ে ৩৭ কিলোমিটার সড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে সড়ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) পোয়ামুহুরী নদীর চরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্মাণ সংস্থা ১৭ ইসিবির পক্ষ থেকে বান্দরবান সড়ক বিভাগের কাছে এই সড়ক হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবির মাধ্যমে আলীকদম–কুরুপাতা–পোয়ামুহুরী সড়কের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৭ ইসিবি আলীকদম জালানীপাড়া থেকে পোয়ামুহুরী পর্যন্ত সাড়ে ৩৭.৫ কিলোমিটার সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। ২০২২ সালে মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালে সড়কটি সড়ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনেকট্রকশন ব্রিগেডের অধীন ১৭ ইসিবি কর্তৃক (এজেকেপি রোড) আলীকদম–জালানীপাড়া–কুরুপাতা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দকৃত ৫০৫ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৪৭৪ কোটি টাকায় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয় এবং অবশিষ্ট অর্থ সরকারকে ফেরত দেওয়া হয়—যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দক্ষতা ও স্বচ্ছতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারহান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১৭ ইসিবির বিএ-৮৭৬৮ মেজর মোহাম্মদ এহসান নুর আকাশ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্গম এই অঞ্চলে সড়ক নির্মাণের ফলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হয়েছে। আগে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতেন না। এখন সড়কটি চালু হওয়ায় সহজেই পণ্য পরিবহন সম্ভব হচ্ছে এবং কৃষকরা তাদের পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন।

স্থানীয় কারবারি ইয়ারিং বলেন, “এই সড়কটি হওয়ার কারণে আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। আগে কষ্ট করে চলাচল করতে হতো, এখন দ্রুত বাজারে যেতে পারি। আমাদের উৎপাদিত ফসলও এখন ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারছি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সড়কটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow