অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল নিয়ে মুখ খুললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

অনলাইন ডেস্কঃ
Apr 6, 2026 - 18:13
অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল নিয়ে মুখ খুললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

অস্ট্রেলিয়া সরকার কর্তৃক ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। সোমবার (৬ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। 

শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, গত সপ্তাহে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন এবং গত শনিবার নির্ধারিত কাজ শেষ করে দেশে ফিরে এসেছেন। সোমবার সকালে তিনি জানতে পারেন যে তার অস্ট্রেলীয় ভিসাটি বাতিল করা হয়েছে। 

ভিসা বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ইমিগ্রেশন থেকে আসা চিঠিটি ছিল মূলত একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—আবেদনকারী যে উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন, তা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করে তিনি দেশে ফিরে গেছেন। ফলে ভিসার কার্যকারিতা আর অবশিষ্ট নেই।” 

তবে গণমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে প্রচারিত হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবের অমিল রয়েছে বলে দাবি করেন এই ইসলামি চিন্তাবিদ। তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিরোধীদলীয় রাজনীতিক এবং কিছু ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী তার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ ও বিকৃত অনুবাদ প্রচার করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি জানান, গত জানুয়ারি মাসে ইসলামবিদ্বেষী কন্টেন্ট তৈরির অভিযোগে ‘সামি ইয়াহুদ’ নামে এক ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করেছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। তার মতে, শক্তিশালী ইসরায়েলি লবির ওপর সেই ঘটনার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকতে পারে।

নিজের উদারনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “কোনো ধর্ম, জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ নেই। আমরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া যেকোনো অন্যায়েরও তীব্র বিরোধিতা করি। সঠিক তথ্য যাচাই না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কাম্য নয়।”

উল্লেখ্য, এর আগে সিডনির ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’ এক প্রতিবেদনে জানায়, অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইহুদিবিদ্বেষী বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow