এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে ‘হামরোগ’ বিষয়ক এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)-এর উদ্যোগে এই সেমিনারটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবু তালহা। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৫-২০২৬ সালে বাংলাদেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ছয় হাজারের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং শতাধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
হাম কেন বিপজ্জনক?
ডা. আবু তালহা জানান, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। ৫ বছরের নিচের শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কের প্রদাহের (এনকেফালাইটিস) মতো প্রাণঘাতী জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ভিটামিন-এ এর অভাবজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধের জন্যও হাম প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি।
সংক্রমণের কারণ ও লক্ষণ:
সেমিনারে জানানো হয়, হাম মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো—তীব্র জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ ওঠা। টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটা, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদানে অনীহা এবং জনসাধারণের অসচেতনতাকে এই রোগ বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়:
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে শিশুকে এমআর (MR) বা এমএমআর (MMR) টিকা দেওয়া। বাংলাদেশে ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান করা হয়। এছাড়া আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসকের পরামর্শে পর্যাপ্ত পানি, তরল খাবার এবং ভিটামিন-এ ক্যাপসুল নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “একটি সুস্থ জাতি গঠনের জন্য প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিকল্প নেই।” তিনি হাম নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনডিএফ-এর জেনারেল সেক্রেটারি ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন। সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. আহমেদ মূর্তজা চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মো: খয়বর আলী, অধ্যাপক ডা. মো: মোস্তাফিজুর রহমান এবং অধ্যাপক ডা. রাকিবুল হক খানসহ আরও অনেকে।
পরিশেষে, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সেমিনারটি সমাপ্ত হয়।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফুটবল | ৬ জুলাই, ২০২৬
সারাদেশ | ৬ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় | ৬ জুলাই, ২০২৬
ফুটবল | ৬ জুলাই, ২০২৬
নাটক | ৬ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।