ফরিদপুরে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শ্রমিক হত্যাকাণ্ড: মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখ গ্রেপ্তার
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পায়ুপথে কম্প্রেসার মেশিনের উচ্চচাপের বাতাস ঢুকিয়ে এক কিশোর শ্রমিককে ??
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পায়ুপথে কম্প্রেসার মেশিনের উচ্চচাপের বাতাস ঢুকিয়ে এক কিশোর শ্রমিককে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখ ওরফে হাকিম (২২)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান র্যাব-১০-এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আজ বৃহস্পতিবার মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত রিহাত শেখ ওরফে হাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব সূত্র জানায়, নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বোয়ালমারী থানাধীন সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা গ্রামে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বোয়ালমারীর ডোবরা গ্রামে অবস্থিত আকিজ-বশির জনতা জুট মিলে কর্মরত ভিকটিম মো. সজিব ওরফে শরীফ (১২) কাজ শেষে কম্প্রেসার মেশিনের হাওয়াই পাইপ দিয়ে শরীর পরিষ্কার করছিল। এ সময় অভিযুক্ত রিহাত শেখ ও তার এক সহযোগী মিলে ভিকটিমের পায়ুপথে কম্প্রেসার মেশিনের উচ্চচাপের বাতাস প্রবেশ করায়। এতে ভিকটিমের পেট ফুলে যায় এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতে ভিকটিমের অন্ত্র একাধিক স্থানে ছিদ্র হয়ে যায় এবং অস্ত্রোপচার করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বোয়ালমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৭, তারিখ-২৬/০২/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড। ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে ছিল। গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে মামলা রুজুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
র্যাব-১০ আরও জানায়, এ ধরনের নৃশংস ও অমানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
What's Your Reaction?
জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ