ফরিদপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও সাইবার ব্ল্যাকমেইল
ফরিদপুরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে সাজ্জাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একের পর এক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার হয়রানির শিকার হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। সবগুলো অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই কথিত সাংবাদিকের নাম।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মো. আলম শেখ নামের এক ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, কথিত সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে ওই ব্যবসায়ী ও তার বড় ভাইকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন তিনি। এছাড়া, এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একইভাবে চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি ‘মেডিসাস ইন ফুড সাপ্লিমেন্ট’ কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার কাবেরী ইসলাম থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ, কোম্পানির এক সাবেক ডিলারের সঙ্গে যোগসাজশ করে সাজ্জাদ তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় গোপনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। এমনকি কোম্পানির অন্যান্য কর্মী ও কয়েকজন চিকিৎসককেও ফোন করে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
২১ ফেব্রুয়ারি পার্থ সারথী সরকার নামের এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন যে, তার মামার ছবি ব্যবহার করে ‘Sajjad Hossain’ নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে। এই আইডি থেকে নিয়মিত কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তি সাইবার হয়রানি বন্ধ না করে উল্টো তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
সবশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি ডা. শুভ্র সরকার থানায় একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, একটি নির্দিষ্ট ওষুধ কোম্পানির পণ্য প্রেসক্রিপশনে (ব্যবস্থাপত্র) লিখতে রাজি না হওয়ায় তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না দিলে গোপনে তোলা ছবি দিয়ে অশ্লীল কনটেন্ট বানিয়ে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগে সাজ্জাদ হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তের ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া আইডি, কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণাদি পুলিশ নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করছে। প্রাথমিকভাবে সবগুলো অভিযোগের ধরনে মিল থাকায় এবং একই ব্যক্তির নাম বারবার উঠে আসায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, সাংবাদিকতার মতো একটি মহান পেশার আড়ালে এমন লাগামহীন চাঁদাবাজি ও সাইবার অপরাধের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?
নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ