এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) অস্থিরতা ও পরবর্তী সময়ে পরিচালিত নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের কারণে ঘরছাড়া হওয়া বম সম্প্রদায়ের ১০০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর নিজ গ্রামে ফিরে আসা এসব পরিবারের খাদ্য সংকট কাটাতে প্রতি পরিবারকে ৫০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
রবিবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের দুর্গম হ্যাপিহিল পাড়া, আরথা পাড়া, মুন্নাম পাড়া, মুলপিপাড়া, বাসাত্লাং পাড়া, জুরভারং পাড়া, রনিন পাড়া ও খামতাং পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে এই চাল বিতরণ করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বিশেষ উদ্যোগে এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে বাসাত্লাং পাড়ায় একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ কাউছার। এ সময় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য ও তালিকাভুক্ত উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপকারভোগীরা জানান, ২০২২ সাল থেকে কেএনএফের সশস্ত্র কার্যক্রমের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে। সে সময় বম সম্প্রদায়ের অসংখ্য পরিবার জীবন বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নেয়। সম্প্রতি এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে নিজ নিজ গ্রামে ফিরতে শুরু করে। কিন্তু দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তাদের মধ্যে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেয়।
পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মা বলেন, "দীর্ঘদিন পর বম সম্প্রদায়ের লোকজন নিজ নিজ পাড়ায় ফিরে আসার পর তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টার কাছে ছয় মাস মেয়াদী খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য আবেদন করি। তারই প্রেক্ষিতে প্রথম পর্যায়ে ১০০ পরিবারের জন্য পরিবারপ্রতি ৫০ কেজি করে মোট পাঁচ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।"
তিনি আরও জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে চাল বরাদ্দ পাওয়ার পর গুদাম থেকে উত্তোলন করে দুর্গম পাড়াগুলোতে পৌঁছে দিয়ে তা বিতরণ করা হয়েছে। এই সহায়তা সাময়িক সময়ের জন্য হলেও বম সম্প্রদায়ের দুঃসময়ে এটি অবর্ণনীয় উপকারে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
এই মানবিক উদ্যোগের জন্য পার্বত্য উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মা।