এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
যে নামে একদিন কেঁপে উঠত পুরো মুকসুদপুর, আজ তার পতনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে সাধারণ মানুষ। তিনি সাব্বির খান—একসময়ের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তার পরিচয় ছিল ‘মূর্তিমান আতঙ্ক’। এমপি ভাইয়ের ক্ষমতার ছায়াতলে থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধ সাম্রাজ্য।
গত জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে গেছেন সাব্বির। কিন্তু তিনি এলাকা ছাড়লেও তার নৃশংসতার ভয়াল স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফিরছে ভুক্তভোগীদের। এতদিন যারা ভয়ে মুখ খোলার সাহস করেননি, তারাই এখন একে একে বর্ণনা করছেন সাব্বিরের উত্থান ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের লোমহর্ষক কাহিনী।
মুকসুদপুরের বেজড়া ভাটরা গ্রামের অতি দরিদ্র সিদ্দিক খানের ছেলে সাব্বির একসময় ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন। কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তার ভাগ্য খুলে যায়। গোপালগঞ্জ-১ আসনের তৎকালীন এমপি মুহাম্মাদ ফারুক খানের ভাই—এই পরিচয়কে পুঁজি করে তিনি রাতারাতি হয়ে ওঠেন এলাকার রাজনীতির মধ্যমণি। গড়ে তোলেন নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। দলের পদ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ার ব্যবহার করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েন।
সাব্বিরের অপরাধ জগতের ব্যপ্তি ছিল বিশাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, "সাব্বির খানের অপরাধের তালিকা দিয়ে শেষ করা যাবে না। ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল লুট, মাদক পাচার, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, টেন্ডারবাজি, হাট-ঘাট থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড—এমন কোনো অপরাধ নেই যা তিনি করেননি।" এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০২৩-২৪ সালে উপজেলার দিসতাইল গ্রামে হত্যাকাণ্ড ও বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটের ঘটনায় তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দেন। ২০২০ সালের জুন মাসে মদ্যপ অবস্থায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঔদ্ধত্যও দেখান তিনি।
তবে তার এই অপরাধের রাজত্ব লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল না। বিভিন্ন সময়ে "বাঙালি খবর" পত্রিকাসহ একাধিক গণমাধ্যমে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু এমপি ভাইয়ের প্রভাবে বরাবরই তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অর্থ ও ক্ষমতার দম্ভে জীবনে একবারও তাকে আইনের আওতায় আনা যায়নি, যা তাকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছিল।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সরকারের পতনের পর রাতারাতি হাওয়া হয়ে যান সাব্বির খান। তার পলায়নের খবরে মুকসুদপুরে স্বস্তি ফিরেছে। সাধারণ মানুষ বলছে, তারা এখন মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু পালিয়ে গেলেই হবে না। সাব্বির খান ও তার সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের প্রতিটি অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে, যেন ভবিষ্যতে অন্য কোনো ‘সাব্বির’ জন্ম নেওয়ার সাহস না পায়।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ফরিদপুর | ১১ জুলাই, ২০২৬
বান্দরবান | ১১ জুলাই, ২০২৬
বান্দরবান | ১১ জুলাই, ২০২৬
নীলফামারী | ১১ জুলাই, ২০২৬
রাজবাড়ী | ১১ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।