কাউখালীর সন্ধ্যা নদীতে অভিযান: সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস

মোঃ নাজমুল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৭ এএম
শেয়ার করুন:
কাউখালীর সন্ধ্যা নদীতে অভিযান: সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস

পিরোজপুরের কাউখালীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে সন্ধ্যা নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করেছে প্রশাসন। পরে জব্দকৃত এসব জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) কাউখালী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এবং নৌ পুলিশের সহযোগিতায় সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী ২২ দিনের (৮ থেকে ২৯ অক্টোবর) বিশেষ অভিযান চলছে। এ নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে নদী থেকে সাড়ে আট হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “মা ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যাতে নদীতে জাল ফেলে ইলিশ শিকার করতে না পারে, সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় পুরো মৌসুমজুড়েই আমাদের এ কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা আক্তার জানান, “মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে নদীতে দিন-রাত অভিযান ও তদারকি চালানো হচ্ছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”

উল্লেখ্য, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।