কারাগারে এনসিপি নেতা, ছাড়াতে আরেক নেতার ফোন

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ জুলাই, ২০২৬ ১:০৯ পিএম
শেয়ার করুন:
কারাগারে এনসিপি নেতা, ছাড়াতে আরেক নেতার ফোন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে সাজাপ্রাপ্ত এই নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে।

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমানের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সাজাপ্রাপ্ত মিলনের বাড়ি আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদী গ্রামে।

আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে একটি কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে এই ব্যবসায়ের আড়ালে তিনি জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তিনি নিয়মিত উপজেলা ও পৌর ভূমি অফিসে যাতায়াত করতেন। এর আগে তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। গত মঙ্গলবারের অভিযানে অপরাধ স্বীকার করার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৯ ধারায় সেবার মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এদিকে আদালতের কার্যক্রম চলাকালে এক ভিন্নধর্মী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাজা ঘোষণার সময় উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে মিলনকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। ফোনে তিনি মিলনকে তাদের দলের ‘সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাকে শুধরে যাওয়ার একটি সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। ম্যাজিস্ট্রেট যখন আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে অপারগতা প্রকাশ করেন, তখন আব্দুল জলিল বিষয়টি নিয়ে ‘সংসদ সদস্যের (এমপি) সঙ্গে কথা বলবেন’ বলেও মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং তার দালালির ভিডিও ফুটেজও আমাদের কাছে রয়েছে। এ ছাড়া তার দোকানে কোনো মূল্যতালিকা ছিল না। বিচারিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের তদবিরের সুযোগ নেই, তাই আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়েছে।”

অবশ্য তদবিরের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল। তিনি মুঠোফোনে জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় আছেন এবং মিলন নামের কেউ তার কমিটির সদস্য কি না, তাও তার জানা নেই। ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন দেওয়ার অভিযোগটিও তিনি সঠিক নয় বলে দাবি করেন।

এদিকে ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, “কোনো অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা দলের সাংগঠনিক নীতিমালার পরিপন্থি। কেউ যদি এমনটি করে থাকেন, তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।