বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড/সকালে তদন্ত রিপোর্ট, গাফিলতি পেলে শক্ত অ্যাকশন: বিমান প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ জুন, ২০২৬ ১১:০৫ এএম
শেয়ার করুন:
বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড/সকালে তদন্ত রিপোর্ট, গাফিলতি পেলে শক্ত অ্যাকশন: বিমান প্রতিমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, তদন্তে কারও গাফিলতি বা অবহেলা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনা তদন্তে এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) পরিচালককে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এ সময় বিমানবন্দরে কর্মরত বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদ এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত মালামালের স্তূপ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের গাফিলতি
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে যেখানে সর্বোচ্চ ২০ টন মালামাল থাকার কথা, সেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে কন্টেইনারের মাঝে প্রায় ১৫০ টনেরও বেশি মালামাল স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং) এজেন্টদের সময়মতো মালামাল খালাস না করার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "দৈনন্দিন মালামাল ৭ দিনের মধ্যে খালাস করার কথা থাকলেও তারা তা করছেন না। এখানে তাদের স্পষ্ট গাফিলতি রয়েছে।"

তদন্ত কমিটি গঠন
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) পলিসি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন বিভাগের পরিচালক ইফতেখার জাহান হোসেনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি অস্থায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকও এই কমিটির সাথে যুক্ত রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে এই সাময়িক কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করব এবং দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণ খুঁজে বের করে স্থায়ী ব্যবস্থা নেব।"

দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা?
প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হলেও প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, "বারবার কেন এমন ঘটনা ঘটবে? নিশ্চয়ই আমাদের কোথাও গাফিলতি রয়েছে, তা আমাদের স্বীকার করতে হবে। তবে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নাশকতা বা শত্রুতার বিষয়টিও এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।" সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এটি কেবলই দুর্ঘটনা নাকি কোনো সুদূরপ্রসারী নাশকতা, তা তদন্ত প্রতিবেদনের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শেড নির্মাণ না করার ব্যাখ্যা
গত বছরের ১৮ অক্টোবরের অগ্নিকাণ্ডের পর নতুন শেড নির্মাণ না করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ মাত্র সাড়ে তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে নতুন শেড নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও জাপানের সাথে চুক্তি অনুযায়ী বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া পেছনে ৮ লাখ টন ধারণক্ষমতার দুটি নতুন এক্সপোর্ট ও ইম্পোর্ট গোডাউন বা গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি শেড তৈরি করা যৌক্তিক ছিল না। তবে অন্তর্বর্তীকালীন ৬ মাসের জন্য অস্থায়ী ক্যানোপি বা শেড দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা কেন বাস্তবায়ন করা হয়নি, তদন্তের মাধ্যমে তাও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।