‘সার্ক প্রতিষ্ঠা ও মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সৃষ্টিতে শহীদ জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়’:

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
৩ জুন, ২০২৬ ১০:৫২ এএম
শেয়ার করুন:
‘সার্ক প্রতিষ্ঠা ও মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সৃষ্টিতে শহীদ জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়’:

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী, সাহসী ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রনায়ক। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে গিয়ে তাঁকে জীবন দিতে হয়েছে, কিন্তু তাঁর আদর্শ আজও কোটি মানুষের প্রেরণার উৎস।”

তিনি আরও বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশকে নিয়ে গঠিত ‘সার্ক’ প্রতিষ্ঠার চিন্তা ও উদ্যোগের অন্যতম রূপকার ছিলেন শহীদ জিয়া। তাঁর এই দূরদর্শী দূরদৃষ্টির কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার হয়েছে।”

মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে শহীদ জিয়ার বিশেষ অবদান ছিল। সৌদি বাদশার সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। তিনি সৌদি বাদশাকে বাংলাদেশ থেকে নিমগাছ উপহার দিয়েছিলেন। সেই নিমগাছ আজও স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেখানে এটি ‘জিয়ার নিমগাছ’ নামে পরিচিত। এটি শহীদ জিয়ার কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের এক অনন্য নিদর্শন।”

দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে শহীদ জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “তিনি সবসময় যুবসমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব দিতেন। সৌদি বাদশার কাছে তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই দূরদর্শী উদ্যোগের ফলেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়, যা আজও আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।”

খন্দকার নাসিরুল ইসলাম আরও যোগ করেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো ছিল যুগান্তকারী। একই সঙ্গে তিনি দেশে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ ও কলকারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পায়নের ভিত্তি গড়ে তোলেন।”

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিটন মোল্যার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নিয়ামত হোসেন পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান খসরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির এবং পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান কদর।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা মো. আরব আলী, ফয়সাল, সৈয়দ লিটন, শাহরিয়ার, ডালিম বিশ্বাস, জামসেদ মোল্যা, মো. ফয়সাল সরদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।