কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নগরকান্দায় জমে উঠেছে ষাঁড় গরু প্রস্তুতির কর্মযজ্ঞ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার খামারিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। কোরবানির বাজার ধরতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেশীয় পদ্ধতিতে ষাঁড় গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় খামারিরা।
উপজেলার ফুলসুতি, চরযশোরদী, রামনগর ও পুরাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, খামারিরা তাদের পরম যত্নে লালন-পালন করা গরুগুলোকে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত রেখেছেন। কেউ এক বছর, আবার কেউ দুই বছর ধরে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘাস, খৈল, ভুসি ও দেশীয় দানাদার খাবার খাইয়ে গরুগুলোকে কোরবানির উপযোগী করে তুলছেন। খামারিদের দাবি, তারা কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ব্যবহার করেননি।
ফুলসুতি গ্রামের খামারি জামাল মেম্বার বলেন, “অনেক কষ্ট ও যত্নে গরুগুলো বড় করেছি। আশা করছি, এবার বাজারে পশুর ভালো দাম পাবো এবং লোকসান কাটিয়ে লাভবান হতে পারবো।”
তবে পশুখাদ্যের চড়া দাম ও শ্রমিক সংকট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। পুরাপাড়ার খামারি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা আমাদের জন্য বাড়তি চাপ। তারপরও গুণগত মান ঠিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সরকারিভাবে যদি আমাদের সহযোগিতা করা হয়, তবে খামারিরা আরও উৎসাহিত হবেন।”
এদিকে, কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত খামার পরিদর্শন করছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। খামারিদের দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নগরকান্দায় এবার চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, “উপজেলায় এ বছর কোরবানির জন্য ৪ হাজার ৮৭৮টি ষাঁড়, ২ হাজার ৫৯৮টি গাভী এবং ১২ হাজার ৪৫২টি ছাগলসহ মোট ২১ হাজার ৯৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পশুর সংখ্যা ৮৭৩টি বেশি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা খামারিদের শুরু থেকেই সচেতন করছি যেন কোনোভাবেই ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ইনজেকশন ব্যবহার করা না হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আমাদের এলাকার পশু জেলার বাইরেও পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।”
উপজেলার খামারিরা এখন কেবল ঈদের বাজারের অপেক্ষায়। তাদের প্রত্যাশা, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবং ন্যায্যমূল্য পেলে বছরের দীর্ঘ পরিশ্রম ও যত্ন সার্থক হবে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ