লোডশেডিংয়ের মাঝে স্বস্তির নাম জলিল সাহেব
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে আস্থার নাম হয়ে উঠেছেন জলিল সাহেব। ওজোপাডিকোর আওতায় প্রায় সাড়ে ৮ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সেবা সচল রাখতে তিনি মাঠে যেমন সক্রিয়, তেমনি তথ্যসেবাতেও একাই যেন, লাইভ হটলাইন।
মো. আব্দুল জলিল ওজোপাডিকো বালিয়াকান্দি এরিয়ার পিস কর্মী রেট (কাজের সংখ্যার উপর পারিশ্রমিক) হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। শুধু অনলাইন আপডেট নয়, মাঠপর্যায়ের কাজেও সমানভাবে সক্রিয় জলিল সাহেব। কোথাও গাছ পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ অফিসে লোডশেডিং এর আপডেট জানতে প্রচুর ফোনকল যায়। গ্রাহক তথ্য সেবার বিষয়টি মাথায় রেখে ওজোপাডিকো, রাজবাড়ী-২ (বালিয়াকান্দি এরিয়া) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মোক্তার হোসেন একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলেন। যেখানে জলিল সাহেব নিয়মিতভাবে লোডশেডিং সংক্রান্ত আপডেট প্রদান করছেন। দিন-রাত নির্বিশেষে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় থেকে ক্লান্তিহীনভাবে তথ্য দিয়ে থাকেন। বালিয়াকান্দিতে ৮৫০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা ১২ মেগাওয়াট, এখন পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৪-৫ মেগাওয়াট, ফলে তীব্রলোডশেডিং এর ফাদে পড়েছে বালিয়াকান্দিবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা আলিমুজ্জামান বলেন, লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। তবে গ্রুপে পাওয়া বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আপডেট কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।
গ্রুপে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে আপডেট দিয়ে থাকেন। কখনও গভীর রাত, কখনও ভোর, নির্দিষ্ট কোনো সময় ছাড়াই নিয়মিতভাবে লোডশেডিংয়ের সময় ও সম্ভাব্য বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর সময় জানিয়ে দেন তিনি।
তার বার্তাগুলো প্রায় একই ধাঁচের, আসসালামুয়ালাইকুম… বিদ্যুৎ লাইন বর্তমানে লোডশেডিংয়ে আছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চালু হবে।
গত কয়েক দিনের বার্তা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাত-দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই তার আপডেট দেওয়ার ক্ষেত্রে। কখনও সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিট, কখনও রাত ১টা ১৫ মিনিট, আবার কখনও ভোর ২টা ৫৯ মিনিট প্রতিটি সময়েই তিনি সক্রিয়। প্রায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় তিনি লোডশেডিংয়ের সময় ও সম্ভাব্য বিদ্যুৎ ফেরার সময় জানিয়ে দিয়েছেন গ্রাহকদের।
বালিয়াকান্দি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এহসানুল হক শিপন বলেন, ওই গ্রুপ থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আপডেট জানতে পারি। বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং কমানোর সক্ষমতা বালিয়াকান্দি বিদ্যুৎ বিভাগের নেই, এটা জাতীয় সমস্য। তীব্র লোডশেডিং এর মাঝেও বিদ্যুৎ কখন আসবে, এই তথ্য পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে। দিন বা রাত—যেকোনো সময়েই গ্রুপটিতে জলিল সাহেব তাৎক্ষণিক বা লাইভ আপডেট দিয়ে থাকেন, যা গ্রাহকদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
সম্প্রতি পাইককান্দি এলাকায় গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেলে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে কাজ করেন বলে জানান তিনি। জলিল সাহেব বলেন, ৩০ বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে আছি, এখন সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। কোথায় সংযোগ সমস্যা হলে দৌড়ে যেতে হয় সেখানে, এই তো সেদিন, পাইককান্দি এলাকায় গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যায়, রাত তিনটা পর্যন্ত সেখানে ছিলাম। ঝড় হলে কোথায় গাছ পড়েছে, কোথায় সংযোগে ত্রুটি সেগুলো খুঁজতে হয়, ভাই, আমার তো ঘুম নাই।
ওজোপাডিকো, রাজবাড়ী-২ (বালিয়াকান্দি এরিয়া) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মোক্তার হোসেন জানান, গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কখন স্বাভাবিক হবে—এ ধরনের প্রশ্নে বিপুল সংখ্যক ফোন কল আসায় তথ্য দেওয়ার সুবিধার্থে আমি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি খুলি। ওই গ্রুপে জলিল সাহেব নিয়মিতভাবে লোডশেডিং সংক্রান্ত আপডেট প্রদান করছেন। দিন-রাত নির্বিশেষে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় থেকে ক্লান্তিহীনভাবে গ্রাহকদের তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২, ওজোপাডিকো, রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রওশন আলী বলেন, বালিয়াকান্দিতে সাড়ে ৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে। আমাদের বিদ্যুৎ এর গড় চাহিদা ১২ মেগাওয়াট, পাই ৪-৫ মেগাওয়াট, আমরা শুধু বিতরণের কাজটি করি, বিদ্যুৎ ধরে রাখার মতো অবস্থা আমাদের নেই। জলিল সাহেব একজন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল কর্মী। পিস কর্মী রেট হিসেবে দায়িত্বপালন করলেও মাঠপর্যায়ে তার কাজ প্রশংসনীয়। ঝড়-বৃষ্টি বা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ মেরামতে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান, গ্রাহকের সমস্যায় সাড়া দেন জলিল সাহেব এবং নিয়মিত লোডশেডিং আপডেট জানান।
What's Your Reaction?
মোঃ আজমল হোসেন, বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি, রাজবাড়ীঃ