ঢাবিতে ছয় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পৃথক দুটি ঘটনায় ছয়জন সাংবাদিককে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে এসব ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় বিজয় একাত্তর হলে ‘প্রতিবাদী দেয়াললিখন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় সেই পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) তিন সদস্য বাধার মুখে পড়েন। প্রাইম বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইফতেখার সোহান সিফাত ভিডিও করতে গেলে ছাত্রদল কর্মী নাভিদ আনজুম নিভান তাঁকে বাধা দেন। সিফাত নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও নিভান আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘সাংবাদিক হলেও এখানে ভিডিও করা যাবে না।’
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান এবং নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি হারুন ইসলামকেও হেনস্তা করা হয়। পরে ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে, একই রাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলেও তিন সাংবাদিককে হেনস্তা করার খবর পাওয়া গেছে। সেখানেও দেয়াললিখন নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তজনা চলছিল। হলের একটি কক্ষে হাউস টিউটরের উপস্থিতিতে বৈঠক চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলা হয়। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন এবং লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন।
হেনস্তার শিকার ডেইলি অবজারভারের প্রতিনিধি নাঈমুর রহমান ইমন বলেন, ‘আমরা পরিচয় দেওয়ার পরও আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। হলের অভ্যন্তরীণ বিষয় দাবি করে আমাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং কয়েকজন মারধরের জন্য তেড়ে আসেন।’
এ ঘটনার পর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামীসহ কয়েকজন নেতা সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁরা আশ্বাস দেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তাঁরা কঠোর অবস্থানে থাকবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মনজুর হোসেন মাহি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ।’
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ