আমরাই যেচে সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম: টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সংসদে স্পিকার
বিতর্কিত টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে জাতীয় সংসদে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, টিপাইমুখ বাঁধের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্যত নিজেই নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালিকের এক সম্পূরক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে স্পিকার এই মন্তব্য করেন।
অধিবেশনে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ে নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এই টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল মূলত বাংলাদেশেরই তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধে। ভারত তাঁর অনুরোধেই এটি চালু করেছিল। অর্থাৎ, আমরাই ডেকে ডেকে নিজেদের জন্য এই সর্বনাশ বয়ে এনেছিলাম।’
এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেটের সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক তাঁর অঞ্চলের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে বরাক নদীর উজানের প্রবাহ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের জনপদ ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। অথচ খরা মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র পানিসংকট। এই সংকট মোকাবিলায় এবং টিপাইমুখ বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব রুখতে সরকারের পরিকল্পনা কী, তা জানতে চান তিনি।
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘টিপাইমুখ বাঁধের ফলে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়ে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলব। ভবিষ্যতে যাতে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করা যায় এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হয়, সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করবে।’
উল্লেখ্য, ভারতের মণিপুর রাজ্যে বরাক নদীর ওপর প্রস্তাবিত এই টিপাইমুখ বহুমুখী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত। ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে ভারত এই প্রকল্প হাতে নিলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—এর ফলে বাংলাদেশের বড় একটি অঞ্চলে পানির প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবে এবং চরম পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দেবে।
মন্ত্রীর উত্তরের পর স্পিকারের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মন্তব্য সংসদ অধিবেশনে এক ভিন্ন মাত্রার যোগ করে, যা এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের পেছনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ