আগৈলঝাড়ায় রাতের আধারে মসজিদের পুকুরের মাছ গোপনে বিক্রি

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ৪:২০ পিএম
শেয়ার করুন:
আগৈলঝাড়ায় রাতের আধারে মসজিদের পুকুরের মাছ গোপনে বিক্রি

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় রাতের আধারে মসজিদের পুকুরের মাছ ধরে গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মসজিদের মুসল্লীসহ স্থানীয়রা। 

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের রত্নপুর শাহী বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের একশত শতাংশের একটি পুকুরের মাছ কাউকে না জানিয়ে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রাতে মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, রত্নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লাল মিয়া ও বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর শিকদার গভীর রাতে জাল ফেলে মাছ ধরে। পরে স্থানীয় সাইফুল হাওলাদারের নছিমন গাড়ীতে বহন করে ১২ কিলোমিটার দুরে মাহিলাড়া বাজারে নিয়ে প্রায় দুই লক্ষ টাকায় মাছ বিক্রি করেন বলে স্থানীয়রা জানান। মাছ বহনকারী নছিমনের চালক সাইফুল হাওলাদারকে একটি মাছ খেতে দেয় মাছ বিক্রেতারা। ওই মাছটি তার স্ত্রী মুক্তা বেগম বুধবার ভোর রাতে কাটতে গেলে একই বাড়ি মহিউদ্দিন হাওলাদার দেখে মাছের বিষয় জানতে চায়। তখন সাইফুল জানান মসজিদের পুকুর থেকে রাতে মাছ ধরে তার নছিমনে বিক্রি করা হয়েছে। মহিউদ্দিন হাওলাদার বিষয়টি গোপন রেখে বৃহস্পতিবার রাতে পাহারা দিয়ে মাছ ধরতে দেখে চিৎকার করে স্থানীয়দের জানান। রাতে গোপনে মাছ ধরার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়, বাজারের ব্যবসায়ী ও মসজিদের মুসল্লীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানান, রাতের অন্ধ্যাকারে গোপনে মসজিদ কমিটির সভাপতি বা কাউকে না জানিয়ে মাছ ধরা ঠিক হয়নি। 

বাজারের ব্যবসায়ী জামাল হাওলাদার জানান, ভোর রাতে অজু করতে এসে দেখি তারা মাছ ধরে নছিমনে নিয়ে যাচ্ছে। মসজিদের পুকুরের মাছ বিক্রি করতে হলে পূর্বেই মসজিদে আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল। শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় ইমাম জানিয়েছে মসজিদ ফান্ডে কিছু টাকা রয়েছে। পুকুরের গাইড ওয়াল মেরামত করা হবে। এটা মাছ বিক্রির টাকা কিনা তাও বলেননি। 

ওই মসজিদের মুসল্লী ছরোয়ার হোসেন বলেন, মাছ ধরার বিষয় মসজিদে কোন আলোচনা হয়নি। এমনকি শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে-পরেও কখনও কোন আলোনা হয়নি।

এবষিয়ে ওই মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার সাংবাদিকদের জানান, মসজিদের পুকুরের মাছ ধরার বিষয় আমাকে কেউ জানায়নি। আমি তিনবছর পূর্বে নিজের টাকায় ওই পুকুরে মাছের পোনা ও খাবার সরবরাহ করেছি। 

এব্যাপারে মাছ ধরায় অভিযুক্ত রত্নপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লাল মিয়া বলেন, পুকুরের মাছে রোগ হওয়ায় মাছ ধরে বিক্রি করা হয়েছে। মসজিদের ইমাম মসজিদ কমিটির সভাপতিকে ফোন দিয়ে তাকে পায়নি বলে আমাকে জানিয়েছে। 

অপর অভিযুক্ত রত্নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, সকলকে জানিয়ে মসজিদের উন্নয়ন কাজের জন্য মাছ ধরে বিক্রি করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।