ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা: ৬ দেশের আকাশসীমা বন্ধ, জরুরি অবস্থা জারি
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় ইরান, ইসরায়েল, ইরাক, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই ছয়টি দেশ বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানে হামলার পরপরই নিজ দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দেশজুড়ে বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অন্তত তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তেহরানের ‘রিপাবলিক’ এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলি এই হামলার পরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড-সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি দেশের আকাশসীমা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ইরানে হামলার পরপরই আঞ্চলিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইরাকও তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। একইভাবে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের আকাশসীমা দিয়ে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
এদিকে এই উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানে চালানো এই হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি পুনরায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়া হবে না।
এখন পর্যন্ত এই হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে দুই চিরবৈরী দেশের এমন প্রত্যক্ষ সংঘাতে পুরো আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ বাড়ছে।
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ