১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা

অনলাইন ডেস্কঃ
১২ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৯ এএম
শেয়ার করুন:
১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা

সহজ জয় বোধহয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ভাগ্যে নেই! কেপ ভার্দের পর সুইজারল্যান্ডও আলবিসেলেস্তেদের টেনে নিয়ে গেল অতিরিক্ত সময়ে। তবে ১০ জনের সুইসদের জমাট প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত ভাঙলেন হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ। অতিরিক্ত সময়ের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড। দিনের অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ের পর ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে ইংলিশরা। আটলান্টার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দুই ফুটবল পরাশক্তির মধ্যকার এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল

ম্যাক অ্যালিস্টারের উড়ন্ত সূচনা ও মেসির রেকর্ড

কানসাস সিটিতে ম্যাচের ১০ম মিনিটেই লিড নেয় আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে অধিনায়ক লিওনেল মেসির মাপা কর্নারে কাছের পোস্টে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে নেন তিনি

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে আবারও নিজের নাম নতুন করে লেখালেন ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট। চলতি আসরে ইতোমধ্যে আটটি গোল করার পাশাপাশি দ্বিতীয়বারের মতো সতীর্থকে দিয়ে গোল করালেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

সুইজারল্যান্ডের প্রতিরোধ ও সমতা

শুরুতে গোল পেলেও প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা পুরোপুরি স্বস্তিতে ছিল না। প্রথম ২০ মিনিটে বলের দখলে এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় রক্ষা পায় আলবিসেলেস্তেরা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে জিব্রিল সোর জোরালো শট ঠেকানোর পর ব্রিল এমবোলোর আক্রমণও নস্যাৎ করেন তিনি।

ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলের পর প্রথমার্ধের বাকি ৩৫ মিনিটে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের ধার কিছুটা কমে যায়। বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে সমতা ফেরায় সুইসরা। রিকার্দো রদ্রিগেজের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে আর্জেন্টিনার বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোল করেন নটিংহাম ফরেস্টের ফরোয়ার্ড দান এনদোয়ে

নাটকীয় লাল কার্ড ও এমবোলোর বিদায়

ম্যাচ যখন সুইসদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছিল, তখনই ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় এবং আলোচিত ঘটনা। ৭২ মিনিটে ব্রিল এমবোলোর পড়ে যাওয়াকে প্রথমে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ফাউল ধরে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি জোয়াও পিনেইরো। তবে ভিএআর (VAR) রেফারিকে সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনার পরামর্শ দেয়। রিপ্লে দেখে পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করেন রেফারি। উল্টো ফাউলের অভিনয় (সিমুলেশন) করার অপরাধে এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। অশ্রুসজল চোখে মাঠ ছাড়েন সুইস ফরোয়ার্ড।

অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চ ও আলভারেজ-লাউতারোর জাদু

একজন বেশি নিয়ে খেলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের পাঁচজনের ডিফেন্স লাইন ভাঙতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে ১-১ সমতায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে

অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে অবশেষে আর্জেন্টিনার অপেক্ষার অবসান ঘটে। দুই মিনিট আগে মাঠে নামা হোসে মানুয়েল লোপেজের পাস থেকে বক্সের বাঁ প্রান্তে বল পান হুলিয়ান আলভারেজ। নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে জায়গা বানিয়ে ডান পায়ের দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে আলভারেজের প্রথম গোল

সুইসদের ম্যাচে ফেরার সব আশা শেষ করে দিয়ে অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে (১২০+১ মিনিট) আর্জেন্টিনার জয় সুনিশ্চিত করেন লাউতারো মার্তিনেজ। দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন এই স্ট্রাইকার।

১০ জন নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করা সুইজারল্যান্ড বিদায় নিয়েছে মাথা উঁচিয়েই। অন্যদিকে, টানা তিন নকআউট ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা পার হয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।