ফরিদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পিকআপে ভ্রাম্যমাণ নার্সারি: দোরগোড়ায় মিলছে পছন্দের গাছ
ফরিদপুর শহর ও এর আশপাশের এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতে ফুল ও ফলের গাছ বিক্রির কার্যক্রম। এক সময় মূলত ভ্যানে করে গাছ বিক্রি হতে দেখা গেলেও, বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মিনি পিকআপে সাজিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ক্রেতাদের দোরগোড়ায়। এই উদ্যোগ একদিকে যেমন শহরের শ্রী বৃদ্ধি করছে, অন্যদিকে গাছপ্রেমীরাও সহজেই তাদের পছন্দের চারা সংগ্রহ করতে পারছেন।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে ফরিদপুর শহরের আলিপুর মোড়ে দেখা যায় এক নান্দনিক দৃশ্য। একটি মিনি পিকআপে সুসজ্জিতভাবে সাজানো হরেক রকমের ফুল, ফল ও শৌখিন ওষুধি গাছ। বিক্রেতা মোঃ রোশন অত্যন্ত যত্ন সহকারে গাছগুলোর তদারকি করছেন এবং ক্রেতাদের ফরমায়েশ অনুযায়ী চারা বের করে দিচ্ছেন। তার সংগ্রহে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ, ক্যাকটাস, বনসাই, ঝাউগাছ ও বারোমাসি গেলপ্রিনিয়া ফুলগাছ। এছাড়া শৌখিন ক্রেতাদের জন্য রয়েছে বৈচিত্র্যময় সব ফলের চারা।
বিক্রেতা মোঃ রোশন জানান, তার কাছে থাকা চারাগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই। তিনি বলেন, “আমার কাছে ৭ থেকে ৮ ধরনের গোলাপের চারা রয়েছে। মানভেদে প্রতিটি গোলাপ গাছ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ছোট চারা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া ক্যাকটাস ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, ঝাউগাছ ২০০ টাকা এবং বারোমাসি গেলপ্রিনিয়া ফুলগাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি করছি।”
ফলের চারার মধ্যে তার কাছে রয়েছে উন্নত জাতের পেয়ারা, মালটা, কমলা, সফেদা, পেঁপে ও করমচাসহ নানাবিধ ফলের সমারোহ। ঘর ও বারান্দার সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন আকৃতির বনসাই ও শৌখিন ক্যাকটাসও নজর কাড়ছে সাধারণ মানুষের।
স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ ঘর সাজানোর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও গাছ লাগাতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। নার্সারিতে যাওয়ার সময় না থাকলেও ঘরের কাছে এমন ভ্রাম্যমাণ দোকান পাওয়ায় তারা সহজেই পছন্দের গাছ কিনতে পারছেন।
তবে বিক্রির পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন বিক্রেতা রোশন। তিনি জানান, বর্তমানে শহরে লোকসমাগম কিছুটা কম থাকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না। তবুও সবুজের নেশা ও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ফরিদপুর শহরের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ান তিনি।
শহরের যান্ত্রিকতার মাঝে এমন ভ্রাম্যমাণ সবুজের সমারোহ পথচারীদেরও ক্ষণিকের জন্য প্রশান্তি দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শহরকে সবুজায়ন করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
What's Your Reaction?
জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ