আলফাডাঙ্গায় অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে রহস্য! হত্যা না আত্মহত্যা? তদন্তের দাবি এলাকাজুড়ে
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কুশুমদি গ্রামে প্রবাসী প্রদীপের স্ত্রী শিল্পী রানী (৩৫)-এর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো চলছে নানা আলোচনা ও সন্দেহ—এটি কি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নাকি আত্মহত্যা?
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন তথ্যমতে, গত ১২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় গৃহবধূর শরীরে দাহ্য পদার্থ পড়ে আগুন ধরে যায়। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।
পরে দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিয়াজুল ইসলাম তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় নানামুখী মত ও পাল্টা মতের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর ফকির এনায়েত হোসেন বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন—এমনটাই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অন্যদিকে প্রতিবেশী আরাফাত হোসেন বলেন, প্রদীপকে দেখে এমন কোনো সন্দেহজনক কিছু মনে হয়নি। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তবে নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সচেতন মহল ও স্থানীয়দের একাংশ বিষয়টিকে সন্দেহজনক দাবি করে বলেন, পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা জরুরি। তাদের মতে, এর পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে, যা তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর দ্রুত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং বিষয়টি প্রশাসনকে যথাযথভাবে না জানিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে—যা নিয়ে এলাকায় নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
নিহত শিল্পী রানীর বাবার বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কেষ্টপুর গ্রামে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে প্রবাসী প্রদীপের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের সাগর নামে ১২ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে, যে বর্তমানে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এদিকে ঘটনার পর থেকে প্রবাসী স্বামী প্রদীপের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, প্রদীপ পেশায় একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী। তার বাড়ির সামনেই একটি ফার্নিচারের দোকান রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রদীপের মা চায়না রানী মণ্ডল বলেন, আমার ছেলের বউয়ের স্বভাব চরিত্র ভালো না। এছাড়া আমার ছেলের সঙ্গে বাপের বাড়ির টাকার বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ হতো। ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা প্রাথমিকভাবে অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন—শিল্পী রানীর মৃত্যু কি সত্যিই আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো অজানা রহস্য? তদন্তই দেবে প্রকৃত সত্য।
What's Your Reaction?
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ