আগামী জুনের মধ্যেই মিলবে হেলথ কার্ড, স্বাস্থ্য খাতে বাড়ছে বাজেট: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে আগামী জুন মাসের মধ্যেই সাধারণ মানুষের হাতে ‘হেলথ কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। একইসঙ্গে আগামী অর্থ বছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ‘লোকজ মেলা’র উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "নতুন বছরে আমরা একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখছি। কৃষকদের জন্য যেমন কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তেমনি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে জুনের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষি ঋণ মওকুফ, দুস্থদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, টিআর-কাবিখা এবং খাল খননসহ নানামুখী উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।"
দেশের বর্তমান জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, "হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ৩০টি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে শিশুদের হামের টিকা ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আমরা ইতিমধ্যে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে।"
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজিব মিয়া, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল হান্নান এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
এর আগে, বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে মন্ত্রী, স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে ফিতা কেটে দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শেষাংশে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ