নেত্রকোনার মদনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: মাঠভরা পাকা ধান নিয়ে মহাবিপাকে কৃষক

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনাঃ
Apr 14, 2026 - 14:10
নেত্রকোনার মদনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: মাঠভরা পাকা ধান নিয়ে মহাবিপাকে কৃষক

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মাঠভরা পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্থানীয় কৃষকদের। আধুনিক পদ্ধতিতে ধান কাটার প্রধান ভরসা ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ মেশিনগুলো ডিজেলের অভাবে অলস বসে আছে। ফলে অনেক জায়গায় ধান কাটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কৃষকরা হাহাকার করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ তারা পাননি। 

সরেজমিনে মদন উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্তজোড়া বোরো ধান সোনালি রঙ ধারণ করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তুলতে মরিয়া কৃষকরা। কিন্তু জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় ধান কাটার যন্ত্রগুলো সচল করা যাচ্ছে না। কৃষকদের অভিযোগ, তেলের জন্য পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় ডিজেল মিলছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। 

উপজেলার গোবিন্দশ্রী পশ্চিম পাড়া, বড্ডা ও বারঘরিয়া গ্রামের কৃষক মাজু মিয়া, জানু মিয়া ও নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা ভাটি অঞ্চলের মানুষ, আমাদের একমাত্র সম্বল এই বোরো ধান। কষ্ট করে ফসল ফলালাম, এখন সব ধান পেকে গেছে। কিন্তু ডিজেল সংকটে হারভেস্টার মেশিন চলছে না। তেলের অভাবে মেশিন পড়ে আছে, আর এদিকে আমাদের কষ্টের ফসল মাঠে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। আমরা এখন কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।"

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মদন উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলন বেশ ভালো হয়েছে, তবে এই জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ধান কাটার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মিজান জানান, "গত ১৩ এপ্রিল কিছু এলাকায় ডিজেল সংকটের কারণে হারভেস্টার মেশিন পরিচালনায় সমস্যা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমানে ১৪ হাজার লিটার জ্বালানি মজুদ আছে। আমরা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছি এবং মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছি যাতে দ্রুত ধান কাটা সম্পন্ন হয়। কৃষকদেরও দ্রুত ফসল ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।"

জ্বালানি সংকটে কৃষকরা হাহাকার করলেও ভিন্ন কথা বলছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোসা. বেদবতী মিস্ত্রী। তিনি জানান, গতকাল পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল এসেছে। তার দাবি, "এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক আমার কাছে বা কৃষি অফিসারের কাছে তেল সংকট নিয়ে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ জানাননি।"

হাওর অঞ্চলের সাধারণ কৃষকদের দাবি, সারা বছরের খোরাকি এই বোরো ধান রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কালবৈশাখী ঝড় বা আগাম বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দেওয়ার আগেই যেন পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। সঠিক সময়ে ধান কাটতে না পারলে এই অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow