সালথায় খাল দখল করে দোকান নির্মাণের মহোৎসব, আ’লীগ আমলের দখল এখনো বহাল
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে সরকারি খালের জায়গা দখল করে সারি সারি দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এ দখল শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের পরও সেই ধারাবাহিকতা থেমে নেই; বরং খালের বাকি অংশেও নতুন করে দোকান নির্মাণের কাজ চলছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খালের একাংশে ইতোমধ্যে কয়েকটি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। পাশের অংশেও নতুন করে পাকা স্থাপনা তোলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ আমলে তৎকালীন এক প্রভাবশালী উপজেলা চেয়ারম্যানের আশীর্বাদপুষ্ট এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে অন্তত ১০টি এবং পরবর্তীতে ১টি দোকান নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে আরও একটি দোকান নির্মাণ কাজ চলমান।
এলাকাবাসী জানান, একসময় এই খাল দিয়ে নৌপথে বিভিন্ন এলাকা থেকে বাজারে পণ্য আনা-নেওয়া হতো। খালটি ছিল স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সময়ের পরিবর্তনে নৌপথের ব্যবহার কমে যাওয়ার সুযোগে দখল ও দূষণে খালটি এখন প্রায় মৃত। বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের বেশিরভাগ সময়ই এতে পানি থাকে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী খালের একপাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে অস্থায়ী টং দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তবে হঠাৎ করেই রহস্যজনকভাবে স্থায়ী দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে পাকা দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতায় খালের আরও অংশ দখল করে নতুন দোকান নির্মাণ চলছে।
তবে অভিযুক্ত দোকান মালিকদের দাবি, জায়গাটি তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন জমি। এ বিষয়ে তাদের বৈধ কাগজপত্র ও দলিল রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের মুখে শুনেছি এটি সরকারি খালের জায়গা। কিন্তু কয়েক বছর ধরে দেখছি খালটি ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে। এখন তো সারি সারি দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে।
তারা আরও জানায়, কয়েক বছর আগে সোনাপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার একটি অংশে খাল খননের কাজ করা হলেও বাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকুর খনন অসম্পূর্ণ রেখেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়। ফলে সোনাপুর বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কুমার নদ থেকে বাজারের উত্তর পাশের খালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হয়নি। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুকনো মৌসুমে পানির সংকট দুই ধরনের সমস্যাই দেখা দিবে।
সোনাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান বাবু বলেন, আমার প্রভাব থাকাকালীন সময়ে জায়গা পরিষ্কার রেখেছি। কিন্তু সাবেক কর্মকর্তারা ম্যানেজ হয়ে এখানে ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু জনস্বার্থে এই জায়গাটা পরিষ্কার রাখা জরুরী। না হলে ভবিষ্যতে এখানে ভরাট হয়ে যাবে এবং পানি চলাচলে বাঁধাগ্রস্ত হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমার জানা নাই। সরেজমিনে পরিমাপ করে যদি সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণ করা হয় সেগুলো ভেঙে সরকারি জমি উদ্ধার করা হবে।
What's Your Reaction?
জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ