সরকার চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত : আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। দেশের কোনো মা যেন আর তার সন্তানকে ক্রসফায়ার বা গুমের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে না দেখেন, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিলটির ওপর আপত্তি জানিয়েছিলেন কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর আপত্তির প্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, “সরকার চাইলে প্রতিহিংসার পথে হাঁটতে পারত, কিন্তু আমরা সেই পথ বেছে নিইনি। আমরা চাই না আর কোনো মা তার সন্তানকে হারাক। গুম এবং ক্রসফায়ারের মতো সংস্কৃতি বন্ধ করে একটি মানবিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গড়তে আমরা কাজ করছি।”
২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ওই অধ্যাদেশে তদন্ত প্রক্রিয়া, জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বিষয়গুলো স্পষ্ট ছিল না। এমনকি কমিশন নিজেই মামলা করার বিধান থাকায় নিরপেক্ষতার প্রশ্নেও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এই অস্পষ্টতা দূর করতে এবং সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রাখতে আপাতত ২০০৯ সালের আইনটি পুনর্বহাল করা হয়েছে।
গুম প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, “গুম বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য অপরাধ। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কঠোর আইন করা হয়েছে। একটি শক্তিশালী আইন অন্তত ২০ বছর কার্যকর থাকবে—এমন চিন্তা থেকেই আমাদের এগোতে হবে। তড়িঘড়ি করে নয়, বরং সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা হবে।”
আইনমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, কোনো আইন যদি গোপন উদ্দেশ্য বা পক্ষপাতমূলকভাবে তৈরি করা হয়, তবে তা শুরু থেকেই গ্রহণযোগ্যতা হারায়। তাই স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করেই সরকার নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ