তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বস্তির বৃষ্টি, তবে ভোগান্তিতে জনজীবন
চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকেই তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনজীবন। দীর্ঘ অনাবৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। অসহনীয় এই তাপদাহে জেলার খাল-বিল ও নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় টিউবওয়েলগুলোতেও পানি পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। তীব্র পানির সংকটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, বৃষ্টির আশায় জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ নামাজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজনও করেছিলেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিনের এই অনাবৃষ্টির প্রভাব পড়েছিল কৃষিতেও। আম গাছের মুকুল ঝরে পড়া থেকে শুরু করে ফসলি জমির ধান গাছ পর্যন্ত নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পাশাপাশি, বৃষ্টিহীন শুষ্ক আবহাওয়ায় ধুলোবালির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পায়।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে জেলায় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এরপর দিনের বাকিটা সময় আকাশ মেঘলা থাকলেও রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। দমকা হাওয়ার সাথে বজ্রপাত ও মুশলধারে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে প্রাণ জুড়িয়েছে নগরবাসীর।
তীব্র গরম থেকে মুক্তি মিললেও, দীর্ঘ সময়ের বৃষ্টির ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনজীবন স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও, জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অনেক স্থানে পানি জমে যাওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, যা বৃষ্টির আনন্দকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের এই খরা শেষে বৃষ্টির আগমনে কৃষিখাতে স্বস্তি ফিরলেও, জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
What's Your Reaction?
জায়শা জাহান মিমি, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ