স্বজন হারানোর বেদনার চাদরে ঢাকা পড়েছিল পুরো আয়োজন

অনলাইন ডেস্কঃ
৪ জুলাই, ২০২৬ ৭:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন:
স্বজন হারানোর বেদনার চাদরে ঢাকা পড়েছিল পুরো আয়োজন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’। আজ শনিবার (৪ জুলাই, ২০২৬) সকাল সোয়া ১০টায় আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। স্বজন হারানোর দগদগে ক্ষত বুকে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারা। অশ্রুসিক্ত স্মৃতিচারণে পুরো আয়োজন জুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে আয়োজিত এই বিশেষ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। 

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবের শহীদদের অদম্য চেতনাকে পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং তাদের অবদানকে স্মরণ করতেই এই বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা ও বঞ্চনার চিত্র:
সম্মেলনে অংশ নিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যরা বিগত দিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন, "আমার ভাইয়ের আত্মত্যাগ সবাইকে রাজপথে নামার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। জুলাইয়ে অংশ নেওয়া অনেকেই তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন, তাঁদের সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।" তিনি একই সাথে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জুলাই স্মৃতি স্মারকগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের দাবি জানান।
শহীদ আলভীর বাবা আবুল হাসান এবং শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিক আলম ক্ষোভ ও বিচারহীনতার শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিচারের ক্ষেত্রে তাঁরা আশানুরূপ অগ্রগতি দেখেননি। তাঁরা বর্তমান সরকারের কাছে একটি দৃশ্যমান ও সুষ্ঠু বিচারের জোরালো দাবি জানান।
শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়া দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই স্মৃতিফলকগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানানোর পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের তাগিদ দেন।
শহীদ আবদুল্লাহ জামিলের মা ফাতেমা তুজ জোহরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবহেলার চিত্র তুলে ধরে বলেন, কঠিন বিপদের সময়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও তারেক রহমান ছাড়া কেউ তাঁদের খোঁজ নেয়নি।

আহতদের ক্ষোভ ও বঞ্চনা:
আহত যোদ্ধারাও সম্মেলনে নিজেদের বঞ্চনা ও অবহেলার কথা তুলে ধরেন। আহত শাহীন মালু বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেয়নি। অন্যদিকে, ছাত্রদল কর্মী ও জুলাই যোদ্ধা মিল্লাত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে ৫ আগস্টের পূর্বে তাঁরা যেমন সঠিক চিকিৎসা পাননি, তেমনি সরকারি গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

প্রেক্ষাপট:
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তীতে এক সর্বাত্মক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন। সরকারি গেজেট অনুযায়ী এই অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন হলেও জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে জুলাই ও আগস্টের প্রথমার্ধে এই মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৪০০-এরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।