ক্লেমেন্ট মডেলের ভবিষ্যদ্বানী বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস চ্যাম্পিয়ন, পর্তুগালের কাছে হারবে আর্জেন্টিনা
২০১০ বিশ্বকাপে অক্টোপাস পলের নির্ভুল সব ভবিষ্যদ্বাণী ফুটবল বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছিল। এরপর গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ফল অনুমানে আলোচনায় আসেন জার্মান অর্থনীতিবিদ ইয়াকিম ক্লেমেন্ট। ২০১৪ সাল থেকে টানা তিনটি বিশ্বকাপের (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২) শিরোপাজয়ী দলের নাম সঠিকভাবে বলে দেওয়া ক্লেমেন্টের সেই বিখ্যাত ‘পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল’ এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এক নতুন চমকপ্রদ বার্তা নিয়ে এসেছে।
শিরোপা যাবে নেদারল্যান্ডসের ঘরে
ক্লেমেন্টের গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরবে ভার্জিল ফন ডাইক ও কোডি গাকপোদের নেদারল্যান্ডস। ডাচদের দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা এবার ঘুচতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে এই মডেল।
আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের বিদায়ে বড় ধাক্কা
এই পূর্বাভাসে শুধু চ্যাম্পিয়ন নয়, টুর্নামেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের সম্ভাব্য ফলাফলও উঠে এসেছে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের বিদায়; যেখানে সেলেসাওদের পথ আটকে দেবে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাও সেমিফাইনালের মুখ দেখবে না। কোয়ার্টার ফাইনালেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের কাছে হেরে বিদায় নেবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ফাইনাল ও সেমিফাইনালের লড়াই
মডেলটি বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনালে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডস। এর আগে সেমিফাইনালে ২০০৬ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ফাইনালে উঠবে পর্তুগাল। টুর্নামেন্টের অন্য এক ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে বিদায় করবে দক্ষিণ কোরিয়া।
ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনের বিজ্ঞান ও ‘ভাগ্য’
ইয়াকিম ক্লেমেন্ট বর্তমানে লন্ডনের বিনিয়োগ ব্যাংক ‘প্যানমুর লাইবেরাম’-এ কৌশলবিদ হিসেবে কর্মরত। তার এই মডেলটি মূলত দেশের জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক শক্তি (জিডিপি), আবহাওয়া এবং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের মতো কাঠামোগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে তৈরি করা। তবে ক্লেমেন্ট নিজেই পাঠকদের সতর্ক করে বলেছেন, ফুটবলে ৫০ শতাংশই নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। রেফারির একটি সিদ্ধান্ত কিংবা বল পোস্টে লেগে ফিরে আসার মতো অনিশ্চিত বিষয়গুলো যেকোনো সময় গাণিতিক হিসাব উল্টে দিতে পারে।
কেন এই মডেল তৈরি করেন ক্লেমেন্ট?
মজার বিষয় হলো, ক্লেমেন্ট এই মডেলটি তৈরি করেছিলেন অর্থনীতিবিদদের ‘অহংকার’ ভাঙতে। তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন, অর্থনীতিবিদরা অনেক সময় এমন সব বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন যা আসলে আগে থেকে বলা অসম্ভব। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে তার মডেল গত দশ বছর ধরে শতভাগ সফল প্রমাণিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ক্লেমেন্টের এই পূর্বাভাস ফুটবল বিশ্বে যেমন কৌতূহল বাড়িয়েছে, তেমনি ডাচ সমর্থকদের মনে সঞ্চার করেছে নতুন আশা। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াই শেষে ক্লেমেন্টের ‘ম্যাজিক মডেল’ টানা চতুর্থবারের মতো সাফল্যের দেখা পায় কি না।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ