জলঢাকায় পুরনো জুতা স্যান্ডেল পুড়িয়ে চলছে সড়কের আলকাতরার পিচ ঢালাই কাজ, বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও কৃষি
নীলফামারীর জলঢাকায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের তোয়াক্কা না করে পুরনো জুতা, স্যান্ডেল পুড়িয়ে চলছে রাস্তার আলকাতরা গলিয়ে পিচ ঢালাই ও সংস্কারের কাজ। এই চিত্র দেখা গেছে জলঢাকা-কৈমারী সড়কের ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নেকবক্ত মুন্সিপাড়া (লেচুরতল) এলাকায় আরকাত্রার পিচ গলানোর কাজে ব্যবহৃত পুরনো জুতা, স্যান্ডেলের এই বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায়। এক দিকে যেমন মানুষের শ্বাসকষ্ট বাড়ছে, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের আবাদি ফসল।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,আলকাতরা গলানোর চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে পুরনো স্যান্ডেল ও জুতা। এর ফলে সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে পড়ছে। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অস্থিরতায় ভুগছেন গ্রামবাসী।
স্থানীয় এসএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুল খালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের এসএসসি পরীক্ষা চলছে কিন্তু এই কালো ধোঁয়ায় চোখ-মুখ জ্বালাপোড়া করছে। দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হওয়ায় পড়াশোনায় মন বসাতে পারছি না।ওই এলাকার বাসিন্দা আসাদুল হক জানান, "কালো ধোঁয়ায় ঘরের ভেতর থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ছোট বাচ্চা নিয়ে আমরা বিপদে আছি। এই দূষণ থেকে বাঁচতে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
পথচারী জামাল উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম জানান, জনৈক আব্দুস সালাম ও ইলিয়াস সহ স্থানীয় কয়েক জনকে ম্যানেজ করে একটি ঘন বসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এই আলকাতরা গলানোর চুল্লি বসানো হয়েছে।এর বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও ধুলার কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এতে রাস্তার ধারের ভুট্টা ও ধান সহ বিভিন্ন ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় সুবিধাভোগী আব্দুস সালাম ও ইলিয়াস উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে বলেন,"ক্ষতি হলে আমাদের হবে, আপনাদের কে খবর দিয়েছে?"যা পারেন করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট রাজু জানান, মানুষের দুর্ভোগ ও পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি সত্য। নিরিবিলি জায়গা না পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখানে মেশিন বসিয়েছে। আলকাতরা গলানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, আগে জ্বালানি হিসেবে ধানের তুষ বা কাঠের গুঁড়া ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে তা সহজলভ্য না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে স্যান্ডেলের রাবার ব্যবহার করছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার 'রঞ্জু' নামক এক ঠিকাদার এই তিন কিলোমিটার সড়কের সংস্কারের কাজ করছেন। তবে কাজ চলাকালীন এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি।
পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে আবাসিক এলাকায় এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী সহ সচেতন মহল।
What's Your Reaction?
হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ