যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন নীলুফার ইয়াসমিন (৪৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারী। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ডে অবস্থিত ‘ডিঅ্যান্ডডি কনভিনিয়েন্স স্টোরে’র সামনে তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক রোলবার্ট ওয়াকিনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত নীলুফার ইয়াসমিন ওই কনভিনিয়েন্স স্টোরে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় পুলিশ ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার অভিযুক্ত ওয়াকিন দোকানের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে ব্যর্থ হন। তিনি পিন নম্বর ভুল দিলেও জেদ ধরে নীলুফারের কাছে টাকা দাবি করেন। নীলুফার তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং জানান যে এটিএম মেশিনটি দোকানের মালিকানাধীন নয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওয়াকিন তখন চলে গেলেও গত বৃহস্পতিবার ভোরে প্রতিশোধ নিতে ফিরে আসেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নীলুফার ফজরের নামাজ শেষ করার কিছুক্ষণ পর বাইরে গাড়ি ভাঙচুরের শব্দ শুনতে পান। তিনি দোকান থেকে বের হয়ে দেখেন ওয়াকিন তাঁর গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভাঙচুর করছেন। নীলুফার বাধা দিতে গেলে ঘাতক ‘আমার টাকা দাও’ বলে চিৎকার করতে করতে হাতুড়ি দিয়ে তাঁর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। অভিযুক্ত রোলবার্ট ওয়াকিন একজন গৃহহীন ব্যক্তি এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে এক মাইলের মধ্যেই তাঁকে খুঁজে বের করে এবং গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাঁকে লি কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্পত্তি বিনষ্টের মামলা করা হয়েছে।
নিহত নীলুফার ইয়াসমিনের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নে। মাত্র তিন মাস আগে তিনি এই দোকানে কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যাদের বয়স যথাক্রমে ১৬ ও ২০ বছর। প্রবাস জীবনে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবরে ফ্লোরিডার বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে।
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ