নওগাঁর মান্দায় তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ধর্ষণচেষ্টার সালিস,ফোন পেয়ে উদ্ধার করল পুলিশ

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ
Mar 2, 2026 - 19:04
Mar 2, 2026 - 19:04
নওগাঁর মান্দায় তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ধর্ষণচেষ্টার সালিস,ফোন পেয়ে উদ্ধার করল পুলিশ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় রাতভর সালিস বৈঠক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সালিসে হোসেন আলী (৩৫) নামের এক যুবককে আটক রেখে দফায় দফায় মারধর করা হয়। জরিমানা করা হয় ৪০ হাজার টাকা।

এ অবস্থায় ২৪ ঘন্টা পর আজ সোমবার দুপুরে দ্বিতীয় দফা সালিস চলাকালে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুম থেকে হোসেন আলীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত হোসেন আলী তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার (১ মার্চ) বেলা ১০টার দিকে অভিযুক্ত হোসেন আলী প্রতিবেশী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই কিশোরীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন হোসেন আলীকে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের জিম্মায় দেন। পরে গ্রামপুলিশের সহায়তায় তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটক রাখা হয়।

এনিয়ে ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে পরিষদের হলরুমে রাতভর সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিসে অভিযুক্ত হোসেন আলীকে দফায় দফায় মারধর করে জরিমানার নামে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনসহ তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা।

এ প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুলের নির্দেশে অভিযুক্ত হোসেন আলীকে পরিষদে এনে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। আজ সোমবার চেয়ারম্যান কামরুল নিজেও দ্বিতীয় দফা চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। জরিমানার টাকা না দেওয়ায় আপোষ নিষ্পত্তি ভেস্তে যায় বলেও দাবি করেন তিনি। জানতে চাইলে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুল বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার বাবুল বিষয়টি নিয়ে সালিস করেছে। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সালিস করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে প্রসঙ্গটি তিনি এড়িয়ে যান।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা বলেন, মোবাইলফোনে জানতে পেরে পরিষদ থেকে অভিযুক্ত হোসেন আলীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow