খামেনির মৃত্যুতে যা বললেন আজহারি
এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি প্রাণ হারান। এ হামলায় খামেনির কন্যা এবং তাঁর নাতি-নাতনিরাও নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ রোববার (০১ মার্চ) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানি সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। শোক পালনকালীন সময়ে ইরানের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে খামেনির জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্বের ওপর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া দেশজুড়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রথম খামেনির মৃত্যুর খবরটি বিশ্বমঞ্চে প্রকাশ করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, "খামেনি—যিনি ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও কঠোর ব্যক্তি ছিলেন—তিনি আর নেই। এটি কেবল ইরানের মজলুম জনগণের জন্যই নয়, বরং খামেনির অনুসারীদের হাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিশ্বের অগণিত মানুষের জন্য এক প্রকার ন্যায়বিচার।"
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ও আইআরজিসি-র অনেক সদস্য এখন আর যুদ্ধ করতে আগ্রহী নন এবং তাঁরা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি চাইছেন।
ইরানের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও জনপ্রিয় আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারি। আজ রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আজহারি লেখেন, "অস্থিরতার আগুনে পুড়ছে জনপদ; চক্রান্তে বিদীর্ণ উম্মাহ আজ দিশেহারা। হে আরশের মালিক! জুলুমের অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীতে ন্যায়ের শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।" তাঁর এই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রয়াণে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন এবং এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ