ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট ছাড়িয়েছ ৪৫ কিলোমিটার

অনলাইন ডেস্কঃ
May 27, 2026 - 13:06
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট ছাড়িয়েছ  ৪৫ কিলোমিটার

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে ঘরমুখো মানুষের এই যাত্রায় বিষাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের ভয়াবহ যানজট। যমুনা সেতু থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এই দীর্ঘ যানজট, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

যানজটের কারণ:  
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের পাশাপাশি দফায় দফায় বৃষ্টি, সড়ক দুর্ঘটনা এবং বিভিন্ন স্থানে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। মহাসড়কের চার লেনের গাড়ি যখন তুলনামূলক সরু যমুনা সেতুতে প্রবেশ করতে চাইছে, তখনই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ সারি। 

বর্তমান পরিস্থিতি: 
বুধবার সকালেও মহাসড়কের চিত্র বদলায়নি। যমুনা সেতুর ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, সেতুর দুই প্রান্তেই যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকামুখী লেন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে উত্তরবঙ্গমুখী একমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবুও অনেক স্থানে গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আবার কোথাও চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।

যাত্রীদের দুর্ভোগ: 
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাস না পেয়ে ট্রাক বা পিকআপের ছাদে করে যাতায়াত করা যাত্রীরা। টানা বৃষ্টির মধ্যে মোটরসাইকেলে থাকা নারী ও শিশুদের অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার রাস্তা পার হতে সময় লাগছে কয়েক গুণ বেশি।

টোল আদায়ের তথ্য:  
যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে রেকর্ড ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:  
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, "স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন মহাসড়কে নামায় এবং বৃষ্টি ও দুর্ঘটনার কারণে যানজট তীব্র হয়েছে। চার লেনের গাড়িগুলো যমুনা সেতু দ্রুত পার হতে না পারাই যানজটের মূল কারণ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।"

ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাওয়া এই বিপুল সংখ্যক মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন তৎপর থাকলেও, পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow