হঠাৎ চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

অনলাইন ডেস্কঃ
May 25, 2026 - 10:34
হঠাৎ চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ঝিনাইদহে হামলার শিকার হওয়ার তিন দিন পর সেদিনের পরিস্থিতির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ সোমবার (২৫ মে) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে ‘ফিরে আসা মৃত্যুর মুখ থেকে’ শিরোনামে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার পর তার ওপর একটি পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত  
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, প্রয়াত ইসলামি চিন্তাবিদ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের কবর জিয়ারত এবং আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি ঝিনাইদহে গিয়েছিলেন। সড়ক ও যানজটের দুরবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে পৌঁছে তিনি স্থানীয় কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। 

নামাজ শেষে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ছবি তোলার পর হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় মসজিদ প্রাঙ্গণেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের সাবেক এক আহ্বায়ক তাকে হুমকি দিতে শুরু করেন। নাসীরুদ্দীন বিষয়টি এড়িয়ে সামনে এগিয়ে গেলেও মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ডিম, ইট-পাটকেল ও হকি স্টিক দিয়ে আক্রমণ  
ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, “হঠাৎ করেই আমি চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করি। পাশ থেকে সহযোদ্ধারা জানান, আমার চোখে ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে। এরপরই শুরু হয় এলোপাতাড়ি ধাক্কা ও ঘুষি, যাতে আমার মাথা ভোঁ ভোঁ করতে থাকে।”

তিনি আরও জানান, তার সহযোদ্ধারা চারপাশ থেকে ব্যারিকেড তৈরি করে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। এ সময় বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ও হকি স্টিক দিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়, যার ফলে তার বেশ কয়েকজন সহযোদ্ধা রক্তাক্ত হন। একপর্যায়ে তারা উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং হামলাকারীদের হাত থেকে কিছু হকি স্টিক ও লাঠি কেড়ে নেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ষড়যন্ত্র ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ  
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, এই হামলাটি ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির কর্মীদের একাংশ এবং পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটা একটি ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’। হামলার সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ সদস্য হামলাকারীদের পক্ষ নিয়েছিলেন বলেও তার মনে হয়েছে। তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষ বিপদের সময়ে এগিয়ে এসে তাদের সহযোগিতা করেন।

মামলা গ্রহণে আট ঘণ্টার টালবাহানা  
বিকেলে দলের একটি নির্ধারিত যোগদান কর্মসূচির নিরাপত্তা চাইতে এবং হামলার প্রতিকার পেতে থানায় যান এনসিপি নেতারা। কিন্তু থানায় যাওয়ার পর পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং ঝিনাইদহ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এমনকি বিকেলে অনুষ্ঠেয় তাদের কর্মসূচি বাতিল করে কমিউনিটি সেন্টারটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

থানায় অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন নাসীরুদ্দীন। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সার্ভার সমস্যার অজুহাতে দীর্ঘ আট ঘণ্টা মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার জন্য স্থানীয় পুলিশ চাপ প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে থানার সামনে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিলে এবং ওপর মহলের নির্দেশে আট ঘণ্টা পর মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক  
পোস্টের শেষ অংশে তিনি দাবি করেন, হামলার ঘটনার পর থেকেই ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “আমরা যদি কখনো মারা যাই, আমাদের খুনের যেন সুষ্ঠু বিচার হয়—এইটুকুই অনুরোধ।”

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২২ মে) ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষ থেকে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়েছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow