নগরকান্দায় ‘কালো সোনা’র হাতছানি: পেঁয়াজ বীজ চাষে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
Feb 25, 2026 - 18:30
নগরকান্দায় ‘কালো সোনা’র হাতছানি: পেঁয়াজ বীজ চাষে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ‘কালো সোনা’ হিসেবে পরিচিত পেঁয়াজ বীজ চাষে ব্যাপক সাফল্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যায় মাঠজুড়ে এখন বীজের সবুজ সমারোহ। ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠজুড়ে পেঁয়াজ বীজের কদম (ফুল) বাতাসে দুলছে। স্থানীয় কৃষকদের কাছে পেঁয়াজ বীজ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এটি ‘কালো সোনা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চাষাবাদে কৃষকদের আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনি ফলনও আশানুরূপ হওয়ার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে খরচ তুলনামূলক কম হলেও বাজারমূল্য অনেক বেশি। এ কারণে ধান বা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কৃষকরা এখন পেঁয়াজ বীজ চাষে বেশি ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে চলতি মৌসুমে নগরকান্দায় পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “এ বছর আবহাওয়া পেঁয়াজ বীজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উপদ্রব অনেক কম। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, কৃষকরা এবার বাম্পার ফলন পাবেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।”

স্থানীয় চাষি আসাদ মাতুব্বর জানান, তিনি এ বছর ১৫ কাঠা জমিতে গুটি পেঁয়াজ রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, “ক্ষেতের অবস্থা এখন পর্যন্ত খুব ভালো। নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করছি। যদি বাজার দর ঠিক থাকে, তবে এই বীজ বিক্রি করে অনেক লাভ করতে পারব বলে আশা করছি।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদন শেষে বীজের মান ভালো থাকলে এবং কৃষকরা সঠিক বাজারমূল্য পেলে এই অঞ্চলে পেঁয়াজ বীজ চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা না থাকলে এই ‘কালো সোনা’ই বদলে দিতে পারে নগরকান্দার শত শত কৃষকের ভাগ্য।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow