বিদায় অনুষ্ঠানে ভাঙচুর করে টিকটক ভিডিও তৈরির অভিযোগ

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
Apr 20, 2026 - 18:29
Apr 20, 2026 - 18:29
বিদায় অনুষ্ঠানে ভাঙচুর করে টিকটক ভিডিও তৈরির অভিযোগ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান শেষে একাধীক উশৃংখল বিদায়ী শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণী কক্ষে ঢুকে ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে টিকটকের জন্য ভিডিও ধারণ করে। ঐ টিকটক এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় শিক্ষার্থী অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

উপজেলার বাগধা (দাসপাড়া) মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে ২০২৬ সালের এসএসসি ৫২ জন পরীক্ষার্থীর বিদায় অনুষ্ঠান বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে বিদায়ী ৫ শিক্ষার্থী সবার চোঁখ ফাকি দিয়ে বিদ্যালয় ভবনের তৃতীয় তলায় একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে বৈদ্যুতিক ফ্যানের সুইচ অন করে বেঞ্চের উপর দাড়িয়ে পাখা ধরে ঝুলে ফ্যানের পাখা দুমরে-মুচরে বাঁকা করে এবং শিক্ষার্থীরা দৌরে এসে ফ্লাইং কিক দিয়ে (লাথি মেরে) শ্রেণী কক্ষের অসংখ্য বেঞ্চ তচনচ করে ফেলে দেয়। এসময় তাদের সাথে থাকা অপর সহপাঠিরা এ দৃশ্যের মোবাইলে ভিডিও ধারন করে। পরবর্তীতে তারা নিজেরাই ওই ভিডিও দিয়ে টিকটক তৈরী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে। অল্প সময়ের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় এলাকাবাসীর দৃষ্টিতে আসে এবং এঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

এরপরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভিডিও দেখে তাদের বিদ্যালয়ের ৫ ছাতকে সনাক্ত করেন। উপস্থিত শিক্ষকরা জানান এই বিদ্যালয়ের বিদায়ী ছাত্র চাদঁত্রিশিরা গ্রামের খোকন মীরের ছেলে ব্যবসায় শিক্ষার ছাত নুর মোহাম্মদ, মো রাসেল বক্তিয়ারের ছেলে আসিফ বক্তিয়ার, মো জামাল সরদারের ছেলে সিয়াম সরদার, মো এমদাদুল মিয়ার ছেলে মো আকাশ মিয়া ও খাজুরিয়া গ্রামের বজলুল হকের ছেলে সহিবুল হক সম্রাট। এবিষয়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শুক্রবার(১৭ এপ্রিল) রাতে বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষাথী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ পরবতী করনীয় বিষয়ে সভা করেছে।

এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ৫ শিক্ষাথী আত্বগোপনে থাকায় কাউকে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে অভিযুক্ত সহিবুল হক সম্রাট বলেন, বিদায় অনুষ্ঠান শেষে আমরা কয়েকজন সহপাঠী মিলে টিকটকের ভিডিও করেছি। ওই সময় বুঝতে পারিনি। এখন বুঝেছি কাজটি করা আমাদের ঠিক হয়নি।

সহপাঠি আব্দুল্লাহ মিয়া জানান, বিদায় অনুষ্ঠান শেষে আমার সহপাঠীরা তৃতীয় তলায় গিয়ে বিদ্যালয়ে ফ্যান ও আসবাপত্র ভাংচুর করে। কাজটি ভাল করেনি।

সাবেক শিক্ষাথী রাব্বি হাওলাদার বলেন, এই বিদ্যালয়টি আমাদের আস্থা-শ্রদ্ধা ও ভালবাসার জায়গা। এই বিদ্যালয়কে যারা কলংকৃত করেছে এলাকাবাসী তাদের বিচারের দাবী করেন।

এব্যাপারে শিক্ষক মোঃ কাওসার মেহেদী ও দিপংকর হাওলাদার বলেন, আমাদের শিক্ষক জীবনে এরকম ঘটনা কখনও ঘটেনি। আমরা মর্মাহত ও ব্যথিত।

ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সাবেক সদস্য ও ইউ পি সদস্য-মো ইলিয়াচ মিয়া রিপন বলেন, বিদায় অনুষ্ঠান শেষে ছাত্ররা যে ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা বসে এদের বিচারের আওতায় আনবে। এব্যাপারে মো নায়াব মেহেদী বাবুল ও মাইনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টা আমরা ছোট করে দেখছি না। বিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করে টিকটক তৈয়রীর উল্লাস করে এলাকার সুমান নষ্ট করে।

প্রধান শিক্ষক নিয়াজ মোর্শেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিদায় অনুষ্ঠানে আয়োজন করে আমি বিদ্যালয়ের জরুরী কাজে উপজেলা সদরে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে এসে বিষয়টি জানতে পেরেছি। শিক্ষার্থীরা কেন এধরনের কাজ করলো আমি বুঝতে পারছি না। বিদায় অনুষ্ঠান আবেগঘন পরিবেশে হয়ে থাকে। ভিডিও দেখে আমরা ৫ জন শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছি। অভিভাবকসহ তাদের ডেকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

এব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নিবাহী কমকতা লিখন বনিক সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি আমি জানার পরে ওই শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের ডাকা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের ক্ষতি হওয়া আসবাপত্রের ক্ষতিপুরন দেওয়াসহ ভবিষৎতে এই ধরনের কাজ না করার মুচলেখা রাখা হয়েছে শিক্ষার্থীদের কাজ থেকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow