নগরকান্দায় থামছেই না মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম, ফসলী জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

মিজানুর রহমান, সি: স্টাফ রিপোর্টার
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১২:২৫ এএম
শেয়ার করুন:
নগরকান্দায় থামছেই না মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম, ফসলী জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়
ফরিদপুরের নগরকান্দায় থামছেই না মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে দিন-রাত চলছে মাটি বহনকারী ট্রলিগাড়ি। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রলি গাড়ির সাহায্যে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। জমির মালিকদের নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে ফসলি জমির মাটি কিনে, এক শ্রেণীর অসাধু মাটি ব্যবসায়ী বিভিন্ন ইটভাটায় তা বিক্রি করছে। এছাড়াও ফসলি জমিতে বাড়ি নির্মাণ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেও কেনা হচ্ছে এসব মাটি। 
মাটি ব্যবসায়ী নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের মৃত সত্তার শেখের ছেলে কামরুল শেখ জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে লস্করদিয়া ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রাম এলাকার আটাইল-গোড়াইল চক থেকে ফসলী জমি ও হালট নষ্ট করে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রলিগাড়ির সাহায্যে এলাকার প্রভাবশালী এক ব্যক্তির ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ কোনো অজ্ঞাত ক্ষমতায় দীর্ঘদিন ধরে কামরুল তার অবৈধ ব্যবসা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে। নগরকান্দা -ফরিদপুর সড়কের কালীবাড়ি বাজার, লস্করদিয়া ইউনিয়নের ঝপরখালী মোড়, হাসনহাটি, নতুনবাজার, তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানের সড়কে মাটি বোঝাই ট্রলি চলাচল করছে। প্রশাসনসহ সবার নাগের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাটি ব্যবসা চলছে তো চলছেই। এসব যেনো দেখার কেউ নেই।
মাটি ব্যবসায়ী কামরুল ছাড়াও, হান্নান মাতুব্বর, পাপ্পু, রিজাউল, রমজান, ওহিদ, ওলিউর, বসার, মারুফ, ফরহাদ সহ একাধিক ব্যক্তি  নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ভেকু ও ট্রলি দিয়ে মাটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, নগরকান্দা উপজেলার প্রায় সব জায়গাতেই অবাধে চলছে অবৈধ ভেকু ও ট্রলিগাড়ী। এতে এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায়, অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এলাকায় চলছে ভেকু ও ট্রলি গাড়ি। ট্রলির সাহায্যে মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। ট্রলি গাড়ি চলাচলের সময় গ্রামের সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ট্রলির মাটি সড়কের উপর পড়ে থাকায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়ক পিচ্ছিল হয়ে ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। সারাদিন ভেকু ও ট্রলি চলতে থাকায় ধুলোবালি চার পাশে ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। ভেকু ও ট্রলি গাড়ির শব্দে এলাকায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কিন্তু এলাকার সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেও, অদৃশ্য কোনো কারনে সমাধান পাচ্ছে না। তাইতো, থামছেই না মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য!
নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।