বাবাকে নিয়ে ববিতার স্মৃতিচারণ

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ জুন, ২০২৬ ৩:১৮ পিএম
শেয়ার করুন:
বাবাকে নিয়ে ববিতার স্মৃতিচারণ

মা ও বাবা—দুজনেই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের কারিগর। মায়ের পাশাপাশি বাবার চিরন্তন দায়িত্ব ও ভালোবাসাকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে ‘বাবা দিবস’ পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনে নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ আদর্শ—বাবাকে নিয়ে স্মৃতিকাতর হলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিরসবুজ ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি তাঁর বাবার স্মৃতি, জীবনবোধ ও অভিনয় জীবনের অনুপ্রেরণার নানা অজানা গল্প তুলে ধরেন।

বাবার আদর্শ ও বিচ্ছেদের বেদনা
ববিতা জানান, কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় ‘বাবা দিবস’ এলেই যে তাঁর বাবার কথা মনে পড়ে, বিষয়টি তেমন নয়। তাঁর জীবনের প্রতিটি পরতে জড়িয়ে আছেন বাবা এ এস এম নিজাম উদ্দিন আতাউব। ববিতা বলেন, “সবাই বলেন আমি নাকি আব্বার আদর্শেই বড় হয়েছি। তবে আমি আসলেই তাঁর আদর্শ পুরোপুরি ধারণ করতে পেরেছি কি না, তা আমার নিজের কাছেই এক বড় প্রশ্ন।” বিয়ের মাত্র চার মাস পরেই বাবাকে হারান ববিতা, যা তাঁকে মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

শাসন, শৃঙ্খলা ও আদরের শৈশব
বাবার কঠোর শৃঙ্খলা ও স্নেহের কথা স্মরণ করে ববিতা বলেন, “আব্বা সব সময় আমাদের ছয় ভাইবোনকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাসায় ফেরার কড়া নির্দেশ দিতেন। আজ আমি যে এত পরিপাটি ও গুছিয়ে থাকার চেষ্টা করি, এই সুশৃঙ্খল জীবনের মূলমন্ত্র আমি আব্বার কাছ থেকেই পেয়েছি।” শৈশবের মধুর স্মৃতি আওড়ে তিনি বলেন, “আব্বা যখন অফিস থেকে ফিরতেন, আমরা তাঁকে পান বানিয়ে খাওয়াতাম। তিনি বেশ আয়েশ করে পান খেতেন। আর তাঁর পা টিপে দিতে দিতে আমরা নানা আবদার করতাম, আব্বাও হাসিমুখে আমাদের সব আবদার পূরণ করতেন।”

অভিনয়ের অনুপ্রেরণা ও সত্যজিৎ রায়
ববিতার অভিনয়ে আসার পেছনেও ছিল তাঁর বাবার প্রচ্ছন্ন হাত। বাবা সিনেমা দেখতে ভীষণ ভালোবাসতেন। সিনেমা দেখে এসে সন্তানদের সেই গল্প শোনাতেন এবং চরিত্রে অভিনয় করে দেখাতে বলতেন। মূলত সেখান থেকেই অভিনয়ের প্রতি ববিতার অনুরাগ তৈরি হয়। 

পরবর্তীতে যখন ববিতা কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান, তখন তাঁর বাবা নিজেই সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে ইংরেজিতে চিঠি আদান-প্রদান করতেন। শুটিংয়ের সময় সত্যজিৎ রায়ের সাথে তাঁর চমৎকার একটি সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল। ববিতার ইংরেজি শেখার প্রবল আগ্রহ দেখে প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বাবা তাঁকে একটি ডিকশনারি কিনে দিয়েছিলেন।

হারিকেন হাতে বাবার মান ভাঙানোর গল্প
শৈশবের এক মিষ্টি স্মৃতির কথা মনে করে ববিতা বলেন, “তখন আমরা বাগেরহাটে থাকি, আমি প্রথম শ্রেণিতে পড়ি। বাড়ির সবাই আমাকে রেখে মামার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। আমি বুদ্ধি খাটলাম কীভাবে আব্বাকে রাজি করানো যায়। সন্ধ্যায় যখন বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে আব্বা অফিস থেকে ফিরছিলেন, আমি হারিকেন হাতে নিয়ে তাঁকে এগিয়ে আনতে গেলাম। আমাকে ওভাবে দেখে আব্বা ভীষণ খুশি হলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী চাও মা?’ আমি মামার বাড়ি যাওয়ার আবদার করতেই আব্বা রাজি হয়ে গেলেন।”

শেষ ইচ্ছা
বাবা ছিলেন ববিতার জীবনের ধ্রুবতারা। তাই জীবনের শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করে এই কালজয়ী অভিনেত্রী বলেন, “আব্বা আমার জীবনের একমাত্র আদর্শ। আমার শেষ ইচ্ছা—মৃত্যুর পর যেন বনানী কবরস্থানে আমার বাবার কবরেই আমাকে দাফন করা হয়। আমি শেষ ঘুমেও বাবার বুকেই আশ্রয় পেতে চাই।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।