বেগমগঞ্জে সিএনজি গ্যাস পাম্পে অবৈধ ভাবে টাকা আদায়

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
Mar 8, 2026 - 16:34
Mar 8, 2026 - 16:54
বেগমগঞ্জে সিএনজি গ্যাস পাম্পে অবৈধ ভাবে টাকা আদায়

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনগুলিতে ভিআইপি লাইনোর নামে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালকদের থেকে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার প্রতিটি সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনে ৩-৪টি ডেলিভারি প্যানেলে বসা ২টি করে নজেল থাকে। একলাশপুর সিডাপ গ্যাস ফিলিং ষ্টেশনে ৩টি প্যানেলে ৬টি নজেলে গ্যাস দেয়ার সূযোগ থাকলেও শুধু মাত্র একটি নজেলে অটোরিক্সা গুলিতে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ফলে অটোরিক্সা গুলির দীর্ঘ সারি হয়ে যায়। গ্যাস নিতে একেকটা অটোর অন্তত ২ থকে ৩ ঘন্টার বেশী সময় লাগে। এ সূযোগে নজেলম্যানরা অপর লাইনে অটোগুলিতে ভিআইপি লাইন নাম দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করে প্রতি গাড়ীতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়তি নিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে অটোরিক্সার চালকরা সময় বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এই বাড়তি টাকা দিয়ে গ্যাস নিয়ে থাকে। 

একলাশপুর সিডাপ গ্যাস পাম্পে আসা সিএনজি অটো চালক কামাল মিয়া বলেন, বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত গ্যাস দেয়া বন্ধ থাকে। আমরা গ্যাসের জন্য গিয়ে ২- ৩ ঘন্টা বসে থাকলে বাকি সময়ে গাড়ী চালিয়ে মালিকের ভাড়া ৫-৬শ টাকা পরিশোধ করে নিজেদের পরিবার চালানো সম্ভব নয়। তাই সময় বাঁচাতে আমরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গ্যাস নিতে বাধ্য হই। গ্যাস পাম্প মালিক চাইলে আমাদের থেকে অতিরিক্ত টাকা না নিয়ে আরেকটি লাইন বাড়ালে এই যানজট থাকে না। কারন তারা অবৈধ অর্থ আদায়ের লোভে তারা নজেল বাড়ায় না। 

পাম্পের দায়িত্বে থাকা লিপু মিয়া বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই আমরা এভাবে গ্যাস দিয়ে থাকি। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গ্যাস নেয়া এটা তাদের সমস্যা। ভিন্ন লাইন বাড়ানোর মতো আমাদের পাম্পের ক্যাপাসিটি নাই। মাইক্রো লাইনে ঢুকে কেউ সুবিধা নিলে সেটা তার ব্যাপার।

বেগমগঞ্জ চৌরাস্তায় আবুল কাসেম মিয়ার সিএনজি পাম্পের বিষয়ে কথা বলতে ০১৭৬৫৬৫২৯২ নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও মোবাইল রিচিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে ঐ পাম্পের একজন দায়িত্বরত কর্মকর্তা অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন সমস্যার সমাধানে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ব্যবস্থা বাড়ানো উচিৎ।

রমজান বিবির সাবিক সিএনজি পাম্পে গিয়ে একই অবস্থায় দেখা গেছ্।ে গ্যাস নিতে আসা সিএনজি অটোচালক বাদশা বলেন, একলাশপুর সিএনজি পাম্প থেকে গ্যাস নিতে গেলে প্রেসার কম পাই। তাই আমরা রমজান বিবি সাবিক সিএনজি পাম্পে গ্যাস নিতে আসি। কিšুÍএ এক লাইনে গ্যাস দেয়াতে অনেক বেশী দেরী করতে হয়। আমরা সুবর্নচর থেকে এসে বেশী দেরী করতে পারি না বিধায় প্রতি বোতলে ৫০ টাকা হারে বেশী দিয়ে গ্যাস নিতে বাধ্য হই। আমাদের এ সমস্যা নিয়ে কেউ কোন কথা বলে না। আমরা গ্যাস কোম্পানীর কাছে এটার সমাধান চাই।

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কায়েসুর রহমান জানান, গ্যাস পাম্পগুলির বিষয়ে নানা অভিযোগের কথা শুনা যায়। তাই সাবধানোর স্বার্থে অভিযান করা হয়েছে। যে কোন অনিয়ম ফেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow