কালবৈশাখীর ছোবলে টানা চার দিন বিদ্যুৎহীন সদরপুর
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবের পর ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গত ১২ মে থেকে আজ শুক্রবার (১৫ মে) পর্যন্ত টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে অফিস-আদালতের কার্যক্রম। একইসঙ্গে চরম বিপাকে পড়েছেন বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের চালকসহ সর্বস্তরের মানুষ।
বিদ্যুৎহীনতার কারণে সন্ধ্যা নামলেই পুরো উপজেলা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ভুতুড়ে পরিবেশের কারণে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। সদরপুরের বাসিন্দা রব তালুকদারের ভাতিজা জানান, তার ভবনের মূল ফটকের তালা কেটে দুর্বৃত্তরা অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মান্নান শেখ জানান, তার গোয়াল থেকে দুটি গরু চুরি হয়ে যায়। পরে একটি গরুকে বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে উদ্ধার করা গেলেও অপরটির কোনো খোঁজ মেলেনি। ভাসান চরের বাসিন্দা সালেহা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, "আমার বেশ কয়েকটি হাঁস-মুরগি চুরি হয়ে গেছে। গরিব মানুষ আমি, এখন আমার কী উপায় হবে!"
বিদ্যুতের অভাবে খেটে খাওয়া মানুষও চরম বিপাকে পড়েছেন। সেকেন্দার আলী নামের এক ইজিবাইক (অটো) চালক বলেন, "টানা তিন-চার দিন বিদ্যুৎ না থাকায় গাড়ি চার্জ দিতে পারছি না। অটো চালিয়েই আমার সংসার চলে। রোজগার বন্ধ থাকায় এখন ছেলেমেয়ে নিয়ে কীভাবে দিন কাটাব বুঝতে পারছি না।" এছাড়া বিদ্যুতের অভাবে রাতে অন্ধকারে এবং তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে অতি দ্রুত বিদ্যুতের লাইন চালু করে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্মীরা দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, চুরি-ছিনতাই রোধ এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন সদরপুর উপজেলার ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। পাশাপাশি রাতে পুলিশের টহল বাড়ানোরও দাবি জানান তারা।
What's Your Reaction?
নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ