এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার খান মামুদের ডাঙ্গী গ্রামে কুয়েত প্রবাসী রাজিব মাহমুদ (৩৭) এর বসতভিটা সংলগ্ন ১৮ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একই গ্রামের মেহেদী হাসান, ইমরান মাহমুদ ও সজিব গং প্রবাসী রাজিব মাহমুদের বসতভিটার জমির বাউন্ডারী ওয়ালের তিনটি পিলার ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া জমির মালিকানা সংবলিত সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে যাওয়া, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দিয়ে জমিতে মহড়া দেওয়া এবং মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বসতবাড়ির আঙিনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুয়েত প্রবাসী রাজিব মাহমুদ। তিনি জানান, প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি বসতভিটার সংলগ্ন প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এর সঙ্গে তার মা রেজিয়া বেগমের পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমি মিলিয়ে মোট ১৮ শতাংশ জমি তাদের দখলে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমির দখলে আছেন এবং সেখানে বসতঘর, গাছপালা ও বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। জমি ক্রয়ের পর তিনি নিয়ম অনুযায়ী নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করেন এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসছেন। তার জমির নামজারি খতিয়ান নম্বর ২০০৫-১০০০০৭। জমিটি দিয়ারা ২৬/১১ নং চরভদ্রাসন মৌজার ২৩৯ নং খতিয়ানের ৫১৪৪, ৫১৪২, ৫২২৭ ও ৫২২৯ নং দাগভুক্ত।
প্রবাসী রাজিব মাহমুদ অভিযোগ করেন, তিনি ও তার ভাই দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় এবং পরিবারের সদস্যরা বৃদ্ধ হওয়ায় এই সুযোগে প্রতিপক্ষরা জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিপক্ষরা পাশের একটি সিকস্তি জমির দলিল দেখিয়ে প্রায় সাড়ে ২৫ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করছে এবং বিভিন্ন কৌশলে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে।
স্থানীয়ভাবে ৭ থেকে ৮ দফা সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিপক্ষরা কোনো সালিশে উপস্থিত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। এমনকি চরভদ্রাসন থানায় দুই দফা সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতেও তারা অংশ নেয়নি।
তিনি আরও জানান, গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে প্রতিপক্ষরা দলবল নিয়ে তার দখলীয় জমিতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় তারা বাউন্ডারী ওয়ালের তিনটি পিলার গুড়িয়ে দেয় এবং জমির মালিকানার সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে যায়। বর্তমানে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে দিন-রাত জমিতে মহড়া দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে ভয়েজ মেসেজের মাধ্যমে তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ অবস্থায় তিনি চরভদ্রাসন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ উভয় পক্ষকে কাগজপত্রসহ ৩ এপ্রিল থানায় উপস্থিত হয়ে আপোষ মিমাংসার বৈঠকে বসার জন্য নির্দেশ দেয়। তবে এর আগেই প্রতিপক্ষ মেহেদী হাসান ১ এপ্রিল ফরিদপুর আদালতে গিয়ে বিরোধপূর্ণ জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেন। এতে করে আপোষ বৈঠক স্থবির হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, আদালতে ১৪৪ ধারার আবেদন করা হলে পুলিশ আপোষে বসাতে পারে না। জমির বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে স্থানীয়ভাবে আপোষ হলে সেটি সংশ্লিষ্টদের নিজস্ব বিষয়।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ মেহেদী হাসান বলেন, তিনি গঞ্জর আলী বেপারী গংদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন এবং ক্রয়সূত্রে তিনি জমির মালিকানা দাবি করছেন। যদিও তার দলিলটি পরে সম্পাদিত, তবুও জমির দাতা সঠিক বলে তিনি দাবি করেন।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ৩ জুলাই, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৩ জুলাই, ২০২৬
পিরোজপুর | ৩ জুলাই, ২০২৬
নওগাঁ | ৩ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।