শরীয়তপুরে নৃশংসতা: স্বামীকে হত্যার পর লাশ টুকরো করে ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা পড়লেন স্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
May 16, 2026 - 11:08
শরীয়তপুরে নৃশংসতা: স্বামীকে হত্যার পর লাশ টুকরো করে ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা পড়লেন স্ত্রী

শরীয়তপুরের চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুম করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে। হত্যার তিন দিন পর মরদেহের অংশবিশেষ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখতে গিয়ে তীব্র দুর্গন্ধে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন অভিযুক্ত ওই নারী। 

নিহত ব্যক্তির নাম জিয়া সরদার, যিনি পেশায় একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার বাসিন্দা। 

পরিচয় ও দাম্পত্য কলহ:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে পিরোজপুরের আসমা আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জিয়া সরদারের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তা বিয়েতে গড়ায়। এটি ছিল উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে। জিয়া প্রবাসে থাকাকালীন আসমা শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত বছর জিয়া দেশে ফেরার পর তারা চন্দ্রপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ:
জিজ্ঞাসাবাদে আসমা জানান, গত ১২ মে রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে চরম কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আসমা একটি লোহার রড দিয়ে জিয়ার মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

মরদেহ গুমের চেষ্টা:
হত্যাকাণ্ড লুকানোর জন্য আসমা মরদেহের পৈশাচিক অবমাননা করেন। তিনি ছুরি দিয়ে জিয়ার দেহ কয়েক টুকরো করেন এবং হাড় থেকে মাংস আলাদা করে একটি ড্রামে ভরে রাখেন। শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় তিনি একটি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিতে শুরু করেন। হাত ও পা নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে এবং মাথাসহ হাড়ের অংশ বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুরে ফেলে দেন। 

যেভাবে ধরা পড়লেন: 
অবশিষ্ট মাংসের অংশটুকু সংরক্ষণের জন্য আসমা তার পূর্বের ভাড়া বাসার এক প্রতিবেশীর ফ্রিজে রাখতে যান। তবে প্যাকেট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে আসমাকে আটক করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

পুলিশ ও স্বজনদের বক্তব্য:
নিহতের ভাই শাহাদাত হোসেন শাহেদ এই ঘটনায় শোকে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, "আমার ভাই প্রবাসে কষ্ট করে টাকা পাঠাতেন। দেশে ফেরার পর তাকে এভাবে জীবন দিতে হবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, অভিযুক্ত আসমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুকুর ও নদীর পাড় থেকে মরদেহের বিভিন্ন খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। 

শরীয়তপুরের এই লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওসির দেওয়া তথ্যমতে, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow